Select Page

‘বিশাল’ বাজেটের প্রিন্স ও রাক্ষসে ‘চমক’ ভারতীয় নায়িকা?

‘বিশাল’ বাজেটের প্রিন্স ও রাক্ষসে ‘চমক’ ভারতীয় নায়িকা?

খুব ছোটবেলা থেকেই সিনেমা হলে গিয়ে ঈদের সময় নানান রকমের বাংলা সিনেমা দেখা আমার অভ্যাস। তখন থেকেই খেয়াল করতাম, ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর মধ্যে কিছুটা এক্স-ফ্যাক্টর, গিমিক বা চমক থাকে। কেউ সচেতনভাবে রাখেন, কারো ক্ষেত্রে ভাগ্য সহায় হয়। ঈদের সিনেমার জন্য ঝকমারি চমক রাখা দোষের কিছু না। তবে চমকের নামে যদি পানসে কিছু পরিবেশন করা হয়, সে ক্ষেত্রে কার কী লাভ হয় আমার জানা নেই।

এই ধরুন, এবারের ঈদে একটি ‘বিশাল’ বাজেটের সিনেমার নায়িকা তিনজন। একজন দেশী, অন্য দুইজন বিদেশী (ভারতীয়)। শুরুতেই যার গান মুক্তি পেল তিনি জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু। মেগাস্টার শাকিব খানের নায়িকা হয়েছেন তিনি ‘প্রিন্স’ সিনেমায়। আগেই ভেবেছিলাম, চমকের জন্যই তাকে রাখা। কিন্তু এই চমকে খুব একটা মন ভরলো না। পরে জানলাম, এই সিনেমায় আরো একজন আছেন: পিয়ান সরকার। কে তিনি? সেভাবে চেনা গেল না। ‘প্রিন্স’ সিনেমায় বাংলাদেশের গুণী অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণও আছে। অথচ এখণ অব্দি শুধুমাত্র একটি টিজারে একটি দৃশ্যেই তাকে রাখা হলো। অথচ আমরা বসে ছিলাম, শাকিব খান-তাসনিয়া ফারিণের গান দেখার জন্য, কেমেস্ট্রি দেখার জন্য। বলা হতে পারে: সব দেখবেন, সিনেমা হলে। আহারে, এভাবে যদি সারা বিশ্বের সবাই ভাবতো, তাহলে প্রচার-প্রচারণার টুল গুলোই বিলীন হয়ে যেত। আমি জানিনা, সিনেমাতে ভারতের দুই নায়িকাকে কেমন লাগবে। ভালো লাগলে, ভালো। তবে গানের দৃশ্যে খুব একটা ভালো লাগেনি মিস কুন্ডুকে। আচ্ছা, চমকটা এরকম হতে পারতো না? শাকিব খানের সাথে আমাদের দেশের কাজ করেনি এমন কোনো তারকাকে হাজির করে? কিংবা বাংলাদেশের নতুন কোনো প্রতিভাময়ীকে হাজির করে? একদম নতুন মুখ। জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু যদি কোয়েল মল্লিক হতেন কিংবা বলিউডের জনপ্রিয় কেউ তাহলেও আনন্দিত হতাম, চমকিত হতাম। কিন্তু অযথা তাদের এনে ইন্ডাস্ট্রিরও বা কি লাভ হবে? ইধিকা পাল আমাদের দেশে দুটি ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা করার পর আমাদের কাছেই নাকি ৩০-৪০ লাখ টাকা দাবি করেন (প্রিন্স সিনেমাতেও নাকি তাকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল)। সুতরাং তাদের পেছনে আমরা কেন ছুটি, জানতে চায় মন। ভারতীয় শিল্পীরা আমাদের এখানে কাজ করতেই পারেন। আমরাও তাদের ওখানে কাজ করি। করতে পারি। কিন্তু যীশু সেনগুপ্তের মত দুর্দান্ত একজনকে আমরা কি ‘বরবাদ’-এ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পেরেছি? যীশু না থাকলেও ‘বরবাদ’-এর ব্যবসায় কি কোনো হেরফের হতো?

‘রাক্ষস’-এর কথাই ধরুন। সিয়াম আহমেদের বিপরীতে সুস্মিতা চ্যাটার্জীকে নেয়া হলো। তিনি ভালো অভিনয় করলে অবশ্যই প্রশংসা করবো। তবে আমাদের দেশের উপস্থাপিকা মৌসুমী মৌয়ের মত দেখতে সুস্মিতাকে নেয়া হলো। কেন মৌসুমী মৌ নয়? কিংবা আমাদের দেশের অন্য জনপ্রিয় তারকা নয়? কিংবা অন্য কোনো নতুন ‍মুখ নয়? আমাদের দেশের কত জনপ্রিয় নায়িকার হাতে সিনেমা নেই। তাদের কি নেয়া যেত না? আমাদের জয়া আহসান ওপার বাংলায় কাজ করলে কোয়েল, শুভশ্রী, শ্রাবন্তী, স্বস্তিকারা বেকার বসে থাকেন না। আমরা কেন আমাদের তারকাদের বসিয়ে রাখছি? দুই বছর আগে ওপার বাংলায় শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটির সিনেমা ‘বহুরূপী’ অলটাইম ব্লকবাস্টার হিট হলো। সেখানে অভিনয়ের জন্য তুলনামূলক কম প্রশংসিত কৌশানীকে কাস্ট করা হলো এবং কৌশানীর রীতিমত নবজন্ম হলো সেই সিনেমায়। সবাই বলতে লাগলেন, আহা! কী দারুণ অভিনয়। আমাদের দেশে কেন ওরকম প্রচারের আলো থেকে পিছিয়ে পড়া কাউকে ‘বড়’ সিনেমায় আমরা কাস্ট করিনা? সেই সিনেমাটিও কিন্তু পূজার মত উৎসবের বড় সিনেমা ছিল। কৌশানীর দুর্দান্ত অভিনয়কে চমক বলে। জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু কিংবা পিয়ান কোনো চমক নয়। ‘রাক্ষস’-এর আইটেম গানে সিয়ামের সঙ্গে নাতালিয়াকে দেখলাম। অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেছেন, কে এই নাতালিয়া? সত্যিই কি নাতালিয়া চমক? নাকি এখানে নোরা ফাতেহী, তামান্না ভাটিয়া কিংবা এরকম কেউ নাচলে চমক হতো? নাকি আমাদের দেশের অনেকে নাচলে চমক হতো? পাল্টা প্রশ্ন করবেন: নাম দিন? দিচ্ছি যে কয়জনের নাম মনে পড়ছে: নুসরাত ফারিয়া, বিদ্যা সিনহা মিম, পরীমনি এমনকি সিনেমায় নতুন পারসা ইভানা কিংবা মিম মানতাশা।

একটা সময় মিঠুন চক্রবর্তী, পারভীন ববি, শশী কাপুর, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, জয়াপ্রদা, ভাগ্যশ্রী, চাঙ্কি পান্ডে প্রমুখ ভিনদেশী তারকারা আমাদের বাংলা সিনেমায় কাজ করেছেন। সেসব ছিল চমক।

আর এ সময়ে যা দেখছি?

সত্যিই কি চমক?


About The Author

নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার, চলচ্চিত্র সমালোচক ও উপস্থাপক। মাছরাঙা টেলিভিশনে ক্রিয়েটিভ হেড হিসেবে কর্মরত।

Leave a reply