Select Page

‘কাল সারারাত’সহ বাংলা চলচ্চিত্রে বার কয়েক শোনা গেছে আশা ভোঁসলেকে—অপ্রকাশিত একটি গান আসবে শিগগিরই

‘কাল সারারাত’সহ বাংলা চলচ্চিত্রে বার কয়েক শোনা গেছে আশা ভোঁসলেকে—অপ্রকাশিত একটি গান আসবে শিগগিরই

বাংলা চলচ্চিত্রে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে-এর উপস্থিতি খুব বেশি না হলেও, তাঁর গাওয়া কয়েকটি গান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। বিশেষ করে ‘কাল সারারাত ছিল স্বপনের রাত’ গানটি দর্শক-শ্রোতাদের কাছে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।

সংগীত পরিচালক শেখ সাদী খান-এর সুরে নির্মিত ‘প্রেমের প্রতিদান’ সিনেমায় ব্যবহৃত গানটি গেয়েছিলেন আশা ভোঁসলে। পরবর্তীতে গানটি ‘মাসুদ রানা এখন ঢাকায়’ চলচ্চিত্রেও ব্যবহৃত হয়। প্রথম ছবিতে দিতি এবং দ্বিতীয়টিতে মুনমুনের ঠোঁটে দেখা যায় গানটি।

তবে অনেকের অজানা, যৌথ প্রযোজনার মাধ্যমে নির্মিত আরো কয়েকটি বাংলা চলচ্চিত্রেও কণ্ঠ দিয়েছেন এই শিল্পী। ‘অবিচার’ চলচ্চিত্রে নূতনের লিপে ‘নাগর আমার কাঁচা পিরিত’ গানটি গেয়েছিলেন তিনি, যেখানে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন শৈলেন্দ্র সিং। ১৯৮৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবিটি পরিচালনা করেন সৈয়দ হাসান ইমাম ও শক্তি সামন্ত। গানের কথা লিখেছিলেন গৌরী প্রসন্ন মজুমদার এবং সুর করেছিলেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক ও আশার স্বামী আর ডি বর্মণ।

এছাড়া জসিম-শাবানা জুটির ‘মেয়েরাও মানুষ’ ছবিতে ‘হাজার জনের মাঝে একজনই শুধু তুমি’ গানটিও তাঁর কণ্ঠে শোনা গেছে। এটিও যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত। যৌথ প্রযোজনার ‘তেমার আমার প্রেম’ ও ‘শেষ বংশধর ‘ ছবিতে শোনা গেছে তাকে। এছাড়া ‘মেহেরনেগার’ ছবিতে মৌসুমীর লিপে নজরুলসংগীত ‘দূর দ্বীপবাসিনী’ ব্যবহৃত হয় তাঁর কণ্ঠে, যদিও এটি নতুনভাবে রেকর্ড না করে পুরোনো অ্যালবাম থেকে নেওয়া হয়েছিল।

‘কাল সারারাত ছিল স্বপনের রাত’ গানটির পেছনের গল্প তুলে ধরতে গিয়ে শেখ সাদী খান জানান, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি কয়েকটি চলচ্চিত্রের জন্য গান তৈরি করছিলেন। তখনই তাঁর ইচ্ছা হয়, বাংলাদেশের সিনেমায় আন্তর্জাতিক মানের কোনো শিল্পীর কণ্ঠ ব্যবহার করার। সেই ভাবনা থেকেই আশা ভোঁসলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ পান। তাঁর ভাই ওস্তাদ বাহাদুর খাঁর মাধ্যমে মুম্বাইয়ের সংগীতজগতের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হয়। পরে মিউজিক অ্যারেঞ্জার দিলীপ রায়ের সহায়তায় আশা ভোঁসলের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্ভব হয়। গানটি শোনানোর পর তিনি তা পছন্দ করেন এবং প্রশংসাও করেন।
তবে গানটি রেকর্ড করা সহজ ছিল না। বড় শিল্পীকে বাংলাদেশে এনে রেকর্ডিং করানো ব্যয়বহুল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আশা ভোঁসলে নিজেই কণ্ঠ ধারণ করে তা পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে গানটি ‘প্রেমের প্রতিদান’ সিনেমায় ব্যবহৃত হলে তা ব্যাপক সাড়া ফেলে।
একই সময়ে আরও তিনটি গান রেকর্ড করা হয়েছিল, যেগুলো ‘হেফাজত’ নামের একটি চলচ্চিত্রে ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু পরিচালকের মৃত্যুর কারণে ছবিটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি। ফলে দুটি গান অপ্রকাশিতই থেকে যায়।

মজার বিষয় হলো, ‘প্রেমের প্রতিদানের’ আরো একটি গান খুব হিট করেছিল, যা চলচ্চিত্রে কুমার শানু প্রথম প্লেব্যাক। গানটি শিরোনাম ‘আমার মনের আকাশে আজ’৷ এই গানটিও শেষ না হওয়া ‘হেফাজত’ চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি হয়েছিল

তবে এর মধ্যে একটি গান ‘দেয়া নেয়া’ নামের অনুদানের চলচ্চিত্রে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন সাদেক সিদ্দিকী। গানটির শিরোনাম ‘চোখে আমার ভালোবাসার মহুয়া আছে আঁকা’—যা বাংলা চলচ্চিত্রে আশা ভোঁসলের গাওয়া শেষ গান হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ‘কাল সারারাত ছিল স্বপনের রাত’ গানটিতে পরবর্তীতে নতুন করে কণ্ঠ দেন বেবী নাজনীন। বর্তমানে তিনি মঞ্চে নিয়মিত গানটি পরিবেশন করে থাকেন। তবে মূল সংস্করণের ভিডিও সহজলভ্য না হলেও অডিও এখনো শোনা যায়।


Leave a reply