প্রথম আলোর প্রতিবেদনই-টিকিটিং ও কেন্দ্রীয় বক্স অফিসে যাচ্ছে চলচ্চিত্র, ঈদের আগেই প্রকল্প প্রস্তাব করবে এফডিসি
দেশের সিনেমা হলগুলোকে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় এনে ই-টিকিটিং ও বক্স অফিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘সেন্ট্রাল সার্ভার, ই-টিকিটিং এবং বক্স অফিস স্থাপন’ শীর্ষক একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি)।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানি।
এফডিসি সূত্র বলছে, ঈদের আগেই ডিপিপিটি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অনুবিভাগে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে সিনেমা হল মালিক, প্রযোজক, পরিচালক ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে এফডিসি। অংশীজনদের বেশিরভাগই উদ্যোগটিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রকল্পের আওতায় এফডিসিতে একটি কেন্দ্রীয় সার্ভার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের কোন সিনেমা হলে কত টিকিট বিক্রি হচ্ছে, কোন শো হাউসফুল, কত আয় হচ্ছে—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। প্রযোজকেরাও অ্যাপ বা সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিজেদের ছবির আয় দেখতে পারবেন।
একই সঙ্গে ধাপে ধাপে সব সিনেমা হলে ই-টিকিটিং চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ একক সিনেমা হলে হাতে হাতে টিকিট বিক্রি হওয়ায় আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় টিকিট বিক্রির অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজক, হলমালিক ও সরকারের নির্ধারিত অংশে ভাগ হয়ে যাবে।
প্রকল্পে পাইরেসি ঠেকাতে বিশেষ ডিভাইস বসানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। কোনো সিনেমা অবৈধভাবে ধারণ বা সম্প্রচার করার চেষ্টা হলে সেটি শনাক্ত করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের আদলে একটি আনুষ্ঠানিক বক্স অফিস র্যাঙ্কিং ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কোন সিনেমা কত আয় করছে, কোন ছবি শীর্ষে রয়েছে—এসব তথ্য একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে চলচ্চিত্র ব্যবসায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বিপণনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে উদ্যোগ বাস্তবায়নে দেশের একক সিনেমা হলগুলোর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছেন প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, অনেক হলে এখনো নির্দিষ্ট আসনব্যবস্থা নেই; ফলে সেখানে কার্যকর ই-টিকিটিং চালু করতে হলে আগে হল আধুনিকায়ন প্রয়োজন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেনও উদ্যোগটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ই-টিকিটিং ও কেন্দ্রীয় বক্স অফিস চালু হলে প্রযোজক ও হলমালিক—উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার পর সেটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে এফডিসি।






