Select Page

‘মহানগর ২’-এর অগ্রিম পারিশ্রমিক ফেরত দিয়ে সরে দাঁড়ান মোস্তাফিজুর নূর ইমরান

‘মহানগর ২’-এর অগ্রিম পারিশ্রমিক ফেরত দিয়ে সরে দাঁড়ান মোস্তাফিজুর নূর ইমরান

আশফাক নিপুণ পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘মহানগর’-এর প্রাণ ভ্রমরা ওসি হারুন চরিত্রে মোশাররফ করিম। এর পর আলো কেড়ে নেয়া চরিত্র এসআই মলয় কুমার, এ চরিত্রে ছিলেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। তবে সিরিজের প্রথম সিজনে থাকলেও দ্বিতীয় সিজনে তার অনুপস্থিতি নিয়ে ছিল প্রশ্ন। এমনকি নির্মাতার জানিয়েছেন, ওই সিজনে মলয় চরিত্রটি দরকার পড়েনি। সম্প্রতি সেই প্রশ্নেরই নিজের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যাখ্যা দিলেন অভিনেতা।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‌‘রইদ’-এ সাদু চরিত্রে অভিনয় করেন বর্তমানে আলোচনায় রয়েছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এর মাঝে সামনে এলো ‘মহানগর ২’ প্রসঙ্গ।

মহানগর ওয়েব সিরিজে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান

রুম্মান রশীদ খানের পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-তে তিনি দাবি করেন, মহানগর এর দ্বিতীয় সিজনে তার অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু প্রযোজনা দলের আচরণ ও কাজের পদ্ধতিতে অসন্তুষ্ট হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেই প্রকল্পটি ছেড়ে দেন।

ইমরান বলেন, ‘মহানগর ২’ আমার করার কথা ছিলো। আমিও ডিটারমাইন্ড ছিলাম যে এটা করবো। কিন্তু শুরু থেকেই আমি টিমকে বলছিলাম, শুটিংয়ে যাওয়ার আগে আমাকে স্ক্রিপ্ট দিতে হবে। প্রথম সিজনেও আমাকে কোনো স্ক্রিপ্ট দেওয়া হয়নি। কিন্তু দ্বিতীয় সিজনে আমার চরিত্রের গ্রাফ কোথায় যাচ্ছে, সেটা তো জানা জরুরি ছিল।

তার অভিযোগ, বারবার স্ক্রিপ্ট চাইলেও সেটি তাকে দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে শুটিংয়ের জন্য বারবার ডেট নেওয়া হলেও তা বাতিল করা হচ্ছিল।

‘আমার কাছ থেকে বারবার শুটিংয়ের ডেট নেওয়া হচ্ছিল, আবার ক্যানসেলও করা হচ্ছিল। ডেট নেওয়ার ধরনটাও ছিল টেলিভিশন নাটকের মতো। বিষয়গুলো আমার ভালো লাগছিল না’, বলেন তিনি।

অভিনেতার ভাষ্য, প্রথম সিজনেও টিমের কাজের ধরন তার খুব একটা পছন্দ হয়নি। দ্বিতীয় সিজনে এসে সেই অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।

‘আমি খুব সম্মান দিতে পছন্দ করি, যেখানে সম্মান পাই না, সেখানে থাকি না। এটা আমার একেবারেই ব্যক্তিগত বোঝাপড়া নিজের সাথে। আমি এটা বুঝতে পারি’, বলেন ইমরান।

রইদ চলচ্চিত্রে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান

তিনি জানান, শুরুতে তার জন্য ১৫ দিনের শুটিং শিডিউল ধরা হয়েছিল। পরে তা কমে ১০ দিন, তারপর ৫ দিন এবং শেষ পর্যন্ত ৩ দিনে নেমে আসে। অথচ তখনও তিনি স্ক্রিপ্ট বা চরিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা পাননি।

‘আমি জানি না কী হচ্ছে, শুধু ফোন আসে আর বলা হয়—‘আপনাকে কিন্তু এবার অনেক বাইক চালাতে হবে।’ পুরো বিষয়টাই আমার কাছে প্রপার অ্যাপ্রোচ মনে হয়নি’, বলেন তিনি।

ইমরান আরও জানান, ‘মহানগর ২’-এর জন্য তিনি অগ্রিম পারিশ্রমিকও নিয়েছিলেন। কিন্তু শুটিং শুরুর মাত্র একদিন আগে জানতে পারেন, নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে এবং ঢাকার বাইরে শুটিং হবে।

‘আমাকে যদি এতটুকু বেসিক ইনফরমেশন দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কোনো টিম মনে না করে, তাহলে সেই টিমের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা আমিও মনে করি না। সেই মুহূর্তেই আমি কাজটি না করার সিদ্ধান্ত নিই। পরের দিনই অ্যাডভান্স টাকা ফেরত দিয়ে দিই’, বলেন তিনি।

এ সময় ‘মহানগর’ সিজন-২-এ তার জনপ্রিয় চরিত্র ‘মলয়’ না থাকার বিষয়ে পরিচালক যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ করেন ইমরান।

তার ভাষায়, ‘পরে এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক বলেছিলেন, গল্পের প্রয়োজনে দ্বিতীয় সিজনে মলয় চরিত্রটি নেই। কিন্তু এটা সত্য নয়। আপনি সত্য বলেন না কেন? আমি শিল্পের চর্চা করবো, কিন্তু সততার চর্চা করবো না—সেটা হতে পারে না।’

এর আগে ২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান বলেন, ‘মহানগর দিয়েই মানুষ আমাকে চিনেছে, এই বিষয়টার সঙ্গে আমি একমত নই। আমার কাছে প্রতিটা কাজই সমান গুরুত্বপূর্ণ। যখন প্রথম সিনেমায় অভিনয় করি সেদিন যতটুকু অনস্ক্রিন অভিনয় করেছিলাম সেটাও যেমন গুরুত্বপূর্ণ আজকের দিনে এসে যা অভিনয় করছি সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার কারণ সেদিন ছোট ছোট কাজগুলো না করলে আজ আমি বড় কাজের সুযোগ পেতাম না। একটু একটু কাজ করে এসেছি দেখে মানুষ আমাকে চিনছে। তবে হ্যাঁ, মহানগর সিরিজের পরে অনেক মানুষ একসঙ্গে চিনেছে।’

এদিকে অনেকদিন ধরে ‘মহানগর ৩’ এর প্রত্যাশায় রয়েছেন দর্শকরা। বিশেষ করে দ্বিতীয় সিজনের অনির্বাণ চক্রবর্তীর ক্যামিও নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। মাঝে শোনা গিয়েছিল, এবারের পর্ব আর ওয়েবে নয় বড়পর্দায় দেখা যাবে। তবে বাজেট সংক্রান্ত জটিলতায় তা আটকে যায়।


Leave a reply