নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবনধারা ‘মাস্তুল’
‘মাস্তুল’ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান নির্মিত আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত ছবি। মস্কো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে স্পেশাল মেনশনের পুরস্কার পেয়েছে। ছবিটি নদীকেন্দ্রিক মানুষের জীবনধারার একটি স্বাভাবিক চিত্র।

নদীতে যাদের জীবন প্রবাহিত হয়, নদীই যাদের জীবনের বেশিরভাগ সময়ের অংশ সেই জীবনেরই বয়ান হয়ে উঠেছে ‘মাস্তুল’ ছবি। শাব্দিকভাবে নৌকায় পাল ওড়ানোর খুঁটি হলো মাস্তুল। ছবিতে এটি ব্যবহৃত হয়েছে অন অনেকটাই প্রতীকীভাবে। জীবিকা নির্বাহের খুঁটি হিসেবে নদীকেন্দ্রিক নির্ভরতাই যেন গল্পে এর অর্থকে দাঁড় করিয়েছে।
ফজলুর রহমান বাবু জাহাজের একজন বাবুর্চি যার সাথে এক ছোট্ট ছেলের বন্ধুত্ব হয়। ছেলেটির খাওয়া পরার চাহিদা ছাড়া আর কোনো চাহিদা নেই। বাবুকে সে ‘নানা’ ডাকে। নানানাতির এই বন্ধুত্ব জাহাজের সুকানি দীপক সুমনের চক্ষুশূলে পরিণত হয় কারণ ছেলেটি শেষ পর্যন্ত গোপন একটা সত্য আবিষ্কার করে। ছেলেটির চরিত্র শেষের দিকে এই কারণেই বিশেষত্ব পায়। সুকানির প্রকৃত চেহারা জাহাজের মালিকপক্ষের কাছেও পরিষ্কার হয়। গল্পে এটাই মূলত টার্ন ছিল।
ফজলুর রহমান বাবুর কোনো সংলাপ ছিল না ছবিতে। সাইলেন্ট অ্যাকটিং-এ তার স্বাভাবিক অভিনয় যর কত দারুণ হতে পারে সেটা দর্শকের ভালোই জানা আছে। এ ছবিতে তাঁর অভিনয় এ জায়গাটিতে নতুন কিছু ছিল। সুকানি চরিত্রে দীপক সুমনের অভিনয় ছবির অন্যতম প্রাণ। ছোট ছেলেটির ন্যাচারাল অভিনয়ও ছবিকে সৌন্দর্য দিয়েছে।
‘আমায় ভাসাইলি রে’ গানটি বেশ ভালো ছিল। সিনেমিটোগ্রাফি খুব ভালো ছিল। তবে ছবি দেখতে গেলে দর্শকের কাছে গল্পে আরো কিছু থাকার দরকার ছিল মনে হতে পারে কারণ যথেষ্ট রিপিট সিন আছে।
ওভারঅল ‘মাস্তুল’ গল্পকেন্দ্রিক ছবি হিসেবে প্রশংসিত কাজ হয়েছে। নতুন পরিচালকের কাজের দিকটিও উল্লেখ করার মতো।
রেটিং – ৭.৫/১০






