Select Page

‘অন্তরার মুখে হাসি লেগেই থাকত’

‘অন্তরার মুখে হাসি লেগেই থাকত’
05_41664৮ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৫টায় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে মারা যান একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অন্তরা। দর্শকনন্দিত অনেক চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী তিনি। অন্তরার আগ্রহেই বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল টিভি অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের। প্রথম ছবির নায়িকা অন্তরাকে নিয়ে কালের কন্ঠে লিখেছেন মাহফুজ আহমেদ। লেখাটি বিএমডিবি পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হলো-

জীবনের প্রথম ছবিতে আমি অন্তরার বিপরীতে নায়ক হয়েছিলাম। ছবির নাম ছিল ‘প্রেমের কসম’। পরিচালক ছিলেন হাসিবুল ইসলাম মিজান ভাই। ছবিতে কাজ করার আগে অন্তরার সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়েছে বলে মনে হয় না। আমাদের প্রথম দেখা হাসিবুল ইসলাম মিজান ভাইয়ের বাসায়। তখন কথা বলে জানতে পারলাম ‘প্রেমের কসম’ ছবির জন্য মিজান ভাইকে আমার কথা অন্তরাই বলেছিল। এর আগে আমি শুধু টেলিভিশনেই অভিনয় করতাম। অন্তরা নাকি আমার অভিনয় দেখেছে এবং মিজান ভাইকে অনুরোধ করেছে আমাকে নেওয়ার জন্য। কাজ করতে গিয়ে আমি অন্য এক অন্তরাকে দেখতে পাই। অনেক সিরিয়াস একজন মানুষ। শুটিংয়ে আমাকে প্রায়ই ভুল ধরিয়ে দিত। বলত, আমাকে ‘হিরো’র মতো কাজ করতে হবে। আমি নাটকের মানুষ, এই কথাটি বারবার আমাকে স্মরণ করিয়ে দিত। বলত, ‘ভাই নাটকের মতো যেন অভিনয় না হয়। আপনার কথাবার্তা, চালচলন সবই এখন হিরোর মতো হতে হবে।’ অন্তরার সঙ্গে কাজ করার সুবাদে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। একজন সহশিল্পী কতটা আন্তরিক হয়, অন্তরাকে দেখে জানতে পেরেছিলাম।

একটা শট বারবার নিলেও বিরক্ত হতো না। তার মুখে সব সময় হাসি লেগে থাকত। অনেক স্মার্টলি কথা বলত, কথায় কোনো জড়তা ছিল না। খুবই স্পষ্টবাদী মানুষ।

তার ধ্যান-জ্ঞান ছিল চলচ্চিত্র আর এফডিসি। তার সঙ্গে অভিনয় করার আগে এফডিসি সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা ছিল না। আমাকে এফডিসির সব ব্যাপারে খোলামেলা বলেছিল সে।

তার মৃত্যুর খবর শুনে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। খুব খারাপ লাগছিল তার এই অকালমৃত্যুতে। তার একটি কথা আমাকে খুব ভাবায়। দেখা হলে আফসোস করে প্রায়ই বলত, ‘আমি আরো বড় অভিনেত্রী হতে পারতাম। অনেক নাম-খ্যাতি অর্জন করতে পারতাম। অথচ দেখেন আমার পরে এসে অনেক মেয়েই বহু নাম-যশ অর্জন করছে।’ আমিও ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, অন্তরা যদি চলচ্চিত্রে লেগে থাকত আরো নাম করতে পারত। তার সে প্রতিভা ছিল।

অন্তরার সঙ্গে আমার সর্বশেষ দেখা হয়েছিল পারিবারিক একটি অনষ্ঠানে। সেদিন দেখে আমি তাকে চিনতেই পারিনি। চালচলন, এমনকি পোশাকেও অনেক পরিবর্তন দেখলাম। মনেই হচ্ছিল না একসময় বাংলা সিনেমার দাপুটে অভিনেত্রীকে আমি দেখছি। এই প্রতিভাবান অভিনেত্রীর মৃত্যুতে আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।

অনুলিখন : জাবেদ মোহাম্মদ নূর


অামাদের সুপারিশ

মন্তব্য করুন

ই-বুক ডাউনলোড করুন

BMDb ebook 2017

Coming Soon
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের অভিনয়শিল্পী বাছাই কেমন হয়েছে?
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের অভিনয়শিল্পী বাছাই কেমন হয়েছে?
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের অভিনয়শিল্পী বাছাই কেমন হয়েছে?

Shares