‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ও সোহানুর রহমান সোহান
কিছু কিছু কাজ নির্মাতার পরিচয় দিতে চিরকালের জন্য বাঁধা পড়ে যায়। পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের জন্য ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ তেমন একটি ছবি। তাঁর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার অবশ্যই সমৃদ্ধ তারপরেও এ ছবিই তাঁকে দর্শকের কাছে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি দিয়েছে এবং তাঁর নামটি আসলে এ ছবির মাধ্যমেই বেশি স্মরণ করবে।

ঢালিউডে যে ছবিগুলো একটা বাঁক পরিবর্তনে অবদান রেখেছে এবং নতুন সময়ের সূচনা করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম সেরা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত।’ আশির দশকের স্টাইল থেকে বেরিয়ে নব্বই দশকের শুরুতে কমার্শিয়াল ছবির নতুন ধারা তৈরি করেছিল ‘চাঁদনী’ ছবি। নাঈম-শাবসাজ জুটি সেটির প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। সেখান থেকে নব্বইয়ের গোড়ার দিকে ১৯৯৩ সালে আরেকটি আভিজাত্যপূর্ণ জুটি সালমান শাহ-মৌসুমীকে দিয়ে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ আরেকটি ক্রেজ তৈরি করেছিল যার পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান।
আমির খান-জুহি চাওলা জুটির ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ হিন্দি সিনেমার কপিরাইট থেকে বাংলা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিটি রিমেক করেন পরিচালক। হিন্দির ফ্রেম-টু-ফ্রেম রেখে বাংলাদেশী আবহে গল্প, গান, অভিনয় সব ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। মোটাদাগে ছবিটি হয়ে উঠেছে উত্তম রিমেকের উদাহরণ যাকে একটি উত্তম অভিযোজন বলাই উচিত।

ছবির একজোড়া নতুন মুখ সালমান শাহ-মৌসুমী নব্বই দশকের তৃতীয়ার্ধ্বে দর্শক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। হালের ক্রেজ তৈরি করেছিল এ জুটি। প্রথম ছবিতে নতুন এ জুটির অনবদ্য অভিনয় দর্শক গ্রহণ করে। দুজনের লুকে একটা ইনোসেন্ট ব্যাপার ছিল। সালমান তাঁর হ্যান্ডসাম পর্দা উপস্থিতিতে ‘ও আমার বন্ধু গো’ গানে যখন একের পর এক অসাধারণ সব এক্সপ্রেশন দিয়ে যাচ্ছে সেইসাথে মৌসুমীর গ্ল্যামার ও সুন্দর রোমান্টিক এক্সপ্রেশনগুলো একই সময়ে গানের রোমান্টিক প্রেজেন্টেশনকে অন্যমাত্রায় নিয়ে যায়। অন্য গানগুলোও একইভাবে কেমিস্ট্রি তৈরিতে সাহায্য করেছে। ‘এখন তো সময় ভালোবাসার, একা আছি তো কি হয়েছে’ এ দুটি অনবদ্য রোমান্টিক। ‘বাবা বলে ছেলে নাম করবে’ এটি অন্যান্য গান থেকে ভিন্ন। রাজিব অসাধারণ ছিল তাঁর চরিত্র রূপায়ণে। একইসাথে বোনের জন্য খুনী হয়, জেল খেটে এসে ছেলের জন্য স্নেহশীল পিতা, ছেলের প্রেমকে মেনে না নেয়া কঠোর পিতা, ছেলেকে ফিরে পেতে আহমেদ শরীফের সাথে লড়াই করা দায়িত্ববান পিতা সবই তার চরিত্রে অনেক বৈশিষ্ট্যকে দেখায়। রাজিব-আহমেদ শরীফ দ্বন্দ্ব এ ছবির অন্যতম শক্তি। নায়ক-নায়িকার পাশাপাশি পার্শ্ব চরিত্রের অসাধারণ পারফরম্যান্সও ছবির প্রাণ।

সর্বোপরি সোহানুর রহমান সোহান ছবিটিকে সব শ্রেণির দর্শকের উপযোগী করে নির্মাণ করেছেন যেখানে সবাই গল্পের সাথে নিজেদের কানেক্ট করতে পারবে। নব্বই দশকের কমার্শিয়াল ছবির কথা আসলে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর নাম অবধারিতভাবেই আসবে আর আসবে এর নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের নাম। ছবি, সালমান শাহ-মৌসুমী ও সোহানুর রহমান সোহান সবাই ওয়ার্ড অফ মাউথে চলে গেছে এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।





