Select Page

ডিরেক্টরস বায়াস: স্যাম্পল ‘টেলিভিশন’

ডিরেক্টরস বায়াস: স্যাম্পল ‘টেলিভিশন’

টেলিভিশন‘ দেখা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্টোরিলাইন দেখে আমার অনুভূতি ছিল, ‘এটা নিশ্চয়ই বাইরের কোনো ফেস্টিভালে দেয়ার জন্য নির্মিত হয়েছে …

যে কোনো এন্টারটেইনমেন্ট প্রোডাক্ট নিঃশেষ পরবর্তীকালে ভোক্তার অনুভূতি আদতে দুই রকম— ‘ভালো লেগেছে’, ‘ভালো লাগেনি’। অন্য সকল অনুভূতির ম্যানুফ্যাকচার হয় এই দুই মৌলিক অনুভূতির বিভিন্ন আনুপাতিক বন্টনে। রিভিউ লেখা যতটা অনুভূতি, তার চাইতে বেশি অভিমত, পর্যালোচনা কিংবা পুনর্ভাবনা যেখানে কেবলমাত্র বাইনারি বহিঃপ্রকাশ যথেষ্ট নয়।

একদশক পূর্বে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নির্মিত টেলিভিশন সিনেমাটি দেখলাম সম্প্রতি। রিভিউ লেখার ক্ষেত্রে দেখাকালীন সময়টাও তাৎপর্যপূর্ণ নিয়ামক। সমকালে লেখা রিভিউ নৈর্ব্যক্তিকতা হারায়, অন্যান্য আলোচনা-সমালোচনা বা প্রশংসার দ্বারা কিছুমাত্রায় হলেও প্রভাবিত হয়। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে থেমে যায় কলরব, নিস্তব্ধতার মধ্যে রিভিউ করতে বসলে পূর্বাপর সকল ডেটাই ততদিনে মলিন হয়ে যায়।

ফিল্ম বা ওয়েবসিরিজের রিভিউ লেখার ক্ষেত্রে সবসময় হাইপ এড়িয়ে চলা সংক্রান্ত আমার দার্শনিক অবস্থানের নেপথ্য ভিত্তি এটাই।

মনে হলো, ফারুকীর এই চিত্রকর্ম নিয়ে কথা বলার জন্য এখনকার সময়টা নিরিবিলি।

শুরুতে যা বলছিলাম; ‘ভালো লেগেছে’ ‘ভালো লাগেনি’— স্রেফ এই দুই ইমপ্রেসন কি যথেষ্ট একটা ফিল্ম নিয়ে মনোভাব ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে? আরেকটা ইমপ্রেসন আছে যার মাধ্যমে পৃথিবীর তাবৎ ইমপ্রেসন প্রকাশ করা যায়— ‘মোটামুটি’।

ফারুকীর সিনেমাটি দেখা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্টোরিলাইন দেখে আমার অনুভূতি ছিল, ‘এটা নিশ্চয়ই বাইরের কোনো ফেস্টিভালে দেয়ার জন্য নির্মিত হয়েছে। একদম ফরমুলা আর প্রটোকল মেনে নির্মিত ১০০% হালাল ফেস্টিভাল ফিল্ম’। অনুভূতি নির্গমনের পর দেখায় বিরতি নিই গুগলে অনুসন্ধানে ফেস্টিভাল বৃত্তান্ত নিরীক্ষণের নিমিত্তে। গুগলে নিজের অনুমানের নির্ভুলতা দেখে আপ্লুত হয়ে পড়ি।

অন্য ভাষার ব্যাপারে জানি না তবে কলকাতা ও ঢাকা থেকে যেসব ফিল্ম বিদেশি ফেস্টিভালে অংশ নেয় বেশিরভাগের প্লটই ঘুরেফিরে ধর্মীয় গোড়ামি, ডমেস্টিক ভায়োলেন্স, সমকামিতা, জেন্ডার পলিটিক্স, সেক্সুয়াল এবিউজ, ফ্রি-সেক্স প্রভৃতি টপিকে হওয়াটা নিতান্তই কাকতালীয়, নাকি এজেন্ডা বাস্তবায়ন কর্মসূচি সেই পলিটিক্স বিষয়ে জানাশোনা নেই।

বিটিভিতে এককালে গণশিক্ষার আসর নামে এক অনুষ্ঠান প্রচারিত হতো, বোর্ডে চক দিয়ে স্পষ্ট করে ক,খ,গ লিখছেন দিলারা হাফিজ। আমার অনুসিদ্ধান্ত বলে মেসেজ থাকবে subtle আকারে, যার আগ্রহ ডিকোড করবে, যার নেই সে ডিকোডিং উপেক্ষা করেও ফিল্ম দেখে নিবে। এইসব ফেস্টিভালমুখী ফিল্মের ন্যারেটিভগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এত স্থূল যে দিলারা হাফিজও হয়তবা অসহিষ্ণু হয়ে পড়তেন।

বাঙালি ফিল্ম ভোক্তাদের ইন্টেলেকচুয়াল হাইটের প্রতি পরিচালকদের অনাস্থার কারণ কি এপার বাংলায় মান্না-শাকিব খান, ওপার বাংলায় প্রসেনজিত-দেব-জিতদের স্টারডম?

কিছুদিন পূর্বে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস পড়েছিলাম। লেখকের নামটা স্মরণে নেই। সাম্প্রতিক হাইপ ‘হাওয়া’ দেখা পরবর্তী প্রতিক্রিয়া লিখেছে, ‘ভালো ছবি সেটাই যেটা মাথায় ধাক্কা দেয় বা গেঁথে থাকে। ক্যামেরার কারসাজিতে যে সিনেমা কেবল চোখে ধাক্কা দেয় সেটা চকলেট।’

স্ট্যাটাসটা পড়ার পরে বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করেছি। মুম্বাইয়ের ‘আন্দাজ আপনা আপনা’ সিনেমাটা মনে পড়েছে। ক্রাইম মাস্টার গোগো, উইটি সংলাপ, নিখাদ কমেডি সবই মনে আছে এতদিন পরও; কিন্তু গানগুলো একটাও মনে পড়ে না, সিনেমাটোগ্রাফির বিশেষত্বও ভুলে গেছি। রিল্যাক্স করতে ইচ্ছা জাগলে এখনো মাঝেমধ্যে ফাস্ট-ফরোয়ার্ড মুডে দেখি। কখনো ভাবিনি এই ফিল্মের রিভিউ লেখা উচিত। তবে কি এটা চকলেট?

হিউমার আমার অতি আগ্রহের বিষয়। হুমায়ূন আহমেদের চাইতে প্রখর ও প্রকট হিউমার কোনোদিন কোনো বাঙালির ছিল বিশ্বাস হয় না, সে অবিসংবাদিত সম্রাট। শিবরাম, সৈয়দ মুজতবা আলী, সুকুমার রায় সবাইকে বিবেচনায় রেখেই বললাম।  ফারুকীও হিউমারের একটা নিজস্ব প্যাটার্ন তৈরির চেষ্টা করে। সংলাপের চাইতে এক্সপ্রেসন নির্ভর সেই হিউমার অবশ্য আমি সাবস্ক্রাইব করি না। ফারুকীর পরবর্তী দুটো সিগনেচার প্রেম ও মোরাল ডিলেমা সংক্রান্ত মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত। সেই সাথে সিম্বোলিক কিছু উপকরণ থাকে অনস্ক্রিনে যেগুলোর মেটাফরিকাল ইন্টারপ্রেটেশন করে নিতে হয় নিজ দায়িত্বে। এছাড়া সাব-প্লট তার স্টোরিটেলিংয়ের খুবই প্রভাববিস্তারি উপকরণ।

তবে অতি ফেস্টিভালমুখীতা তার স্টোরিলাইনকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অতি প্রেডিক্টেবল বানিয়ে ফেলে। একটা সুনির্দিষ্ট আরবান এলিট শ্রেণির বাইরে তার ফিল্মের প্রতি অন্য ফিল্ম ভোক্তা যারা শাকিব খান বা প্রসেনজিতকে গোনায় ধরে না তাদেরও নিরাসক্তির মূল কারণ সম্ভবত তারা দিলারা হাফিজের গণশিক্ষার আসর প্রোগ্রামটা দেখতে চায় না।

এক দুর্গম অঞ্চলের চেয়ারম্যান গ্রামে সকল প্রকার হিউম্যান ইমেজ নিষিদ্ধ করেছে, টেলিভিশনও একই কারণে পরিত্যাজ্য। একদিন গ্রামে এক টেলিভিশন আসে, তা নিয়ে বিশৃংখলা দেখা দেয়। চেয়ারম্যান হজের নিয়ত করে। পাসপোর্টের জন্য ছবি তুলতে হবে, তার ক্ষোভের অন্ত নেই। শহরে নানারকম হিউম্যান ইমেজ দেখে তার চক্ষু কড়ুই গাছ হয়ে উঠে। সে হজ নিয়ে প্রতারিত হয়, অসম্মানের ভয়ে হোটেলের আশ্রয় নেয়৷ শেষ পর্যন্ত টেলিভিশনে হজের সরাসরি সম্প্রচার দেখে সে অতৃপ্তি ঘুচায়।

… স্টোরিলাইনটা যদি এভাবে দেখি, নাথিং সিগনিফিক্যান্ট। ক্যারেক্টারাইজেশনের ইউনিকনেসটা তখন সমুখে আবির্ভূত হয়। এত প্রতাপশালী চেয়ারম্যান যার হুকুমে এলাকায় টেলিভিশন নিষিদ্ধ তাকে যখন সনাতনী ধর্মের একজন বলে— আমাদের ধর্মে তো টেলিভিশন নিষিদ্ধ না; সে ফ্রিডম অব চয়েজকে অবলীলায় উপেক্ষা করতে পারতো, পরিবর্তে সে ডিলেমায় ভুগতে শুরু করে। বিধান দেয় কেবল অমুসলিমদের নিয়ে টেলিভিশন দেখা যাবে। ইতোপূর্বে নিষেধাজ্ঞা ছিল যুবকদের মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও। কৌশলের মাধ্যমে হলেও পুত্র যখন বুঝাতে সমর্থ হয় কেবল প্রেমালাপ নয়, ব্যবসায়িক কাজেও মোবাইল দরকার, নিষেধাজ্ঞা রদ করা হয়।

অনুরূপ টেলিভিশনের মিসইউজ করে সনাতনী ধর্মের শিক্ষক যখন প্রচুর প্রাইভেট টিউশনি বাগিয়ে নিচ্ছিল, মুসলিম শিক্ষকরা টেলিভিশন ইস্যুর সুরাহা চায়, তখনো টেলিভিশন ধ্বংসের পূর্বে সে সমপরিমাণ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। নিজেদের মুক্তমনা, লিবারেল, রেসপেক্টফুল দাবি করা অন্তত ৭০০ মানুষের সংস্পর্শে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, কিন্তু আপাতদৃষ্টে গোঁড়া ওই চেয়ারম্যানের মানের ওপেননেস মনের দিক থেকে ৭ জনের মধ্যেও পাইনি।

সেমেটিক কিংবা প্যাগান ধর্ম যেটাই হোক, কোনো একটি ধর্মের প্রতি আনুগত্যই কি তবে গোঁড়ামি? মানুষের গোঁড়ামি আসে সহনশীলতার অভাব থেকে। চেয়ারম্যানের পুত্র তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে যখন জনসম্মুখে অসম্মান করে পুত্রকে ক্ষমা করে দেয়, নিজের কমফোর্ট জোন পুরোপুরি ভেঙ্গে সেই মেয়েকেই পুত্রবধু বানায় যে ছেলেকে বাবার একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে উসকানি দিয়েছিল রুখে দাঁড়াতে। সেই বিদ্রোহের নৈতিক ভিত্তি কিন্তু অজ্ঞানতা বা গোঁড়ামির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া নয়, স্রেফ ব্যক্তিগত চাওয়া তথা বিয়ের শর্ত পূরণ। একজন ক্ষমতাধর সবচাইতে অপছন্দ করে ও ভয় পায় অবাধ্যতা,এটা সরাসরি তার নিরংকুশতার প্রতি হুমকি। সেই ক্ষমতাবান যদি অবাধ্যতাকে স্পোর্টিংলি নিতে পারে তার মতো হৃদয়বান হয় ক’জনে!

চেয়ারম্যানের চরিত্রের এই লেয়ারগুলো আনউন্মোচিত থাকে কল্পনা বিষয়ে ফ্যালাসিপূর্ণ মতামত দেয়ায়। ফিল্মের শুরুতেই টেলিভিশন রিপোর্টারের কাছে দেয়া সাক্ষাৎকারে। এই যে ক্যারেক্টারটিকে স্টেরিওটাইপ বানানো ও ব্যবহৃত টেকনিক, এগুলো পপুলিস্ট ধর্মফোবিক প্যাটার্ন। এই পয়েন্টে এসে পরিচালক ফেস্টিভালের মোহে নির্মোহতা বিসর্জন দিয়ে দেন। আমরা তখন পরিচালকের বেশে অ্যাওয়ার্ড বাণিজ্য আর ফেস্টিভাল বাণিজ্যের মিডলম্যানদের ঘুরঘুর করতে দেখি।

হালাল টেলিভিশনের আইডিয়াস্বরূপ বিশাল টেলিভিশন নির্মাণ করে তার ভেতরে যাত্রা বা নাটক চালানোর আইডিয়াটা সুন্দর। কিংবা থানা শহরে গিয়ে হলে সিনেমা দেখা আটকাতে নদী পার হতে ভিসা নেয়ার যে বাধ্যতা এর মধ্যেও রাষ্ট্র ধারণার প্রতি তীব্র মকিং লক্ষ্য করা যায়। যে কোনো স্বাধীনচেতা মানুষ আরোপিত এসব পাসপোর্ট-ভিসা সিস্টেমে দমবন্ধ বোধ করার কথা।

ফারুকীর ফিল্মে প্রেমগুলো একতরফা ও বিষন্ন। যদি কোনো প্রেম পূর্ণতা পায় সেখানে পুরুষ চরিত্রটি সাবমিসিভ প্রকৃতির। এই প্যাটার্নেই সে তৈরি করে অভ্যন্তরীণ কনফ্লিক্ট, যেখানে ব্যক্তির প্রতিপক্ষ স্বয়ং তার অলটারনেটিভ ইগো। যথারীতি টেলিভিশনে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ে কমেডি করে মোশাররফ করিম।

আমরা প্রতিনিয়ত কনসেন্ট শব্দটা শুনে থাকি। কাউকে পছন্দ করতে কি কনসেন্ট আদৌ ধর্তব্য? কনসেন্ট তখনই আবশ্যক যখন পছন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন, যেমন; স্পর্শ করা, ছবি তোলা বা আঁকা, তার নাম ও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে বই লেখা-ফিল্ম বানানো। কিন্তু আপনি একজনকে পছন্দ করেন, আপনার অবারিত কল্পনাজগত, সেখানে আপনিই ডিরেক্টর— এখানে কনসেন্টের রোলটা কী! মোরালিটি বা সোস্যাল ইথিক্স গাইডলাইনে আপনাকে আটকানোর নসিহত করা হবে, যদি সেই গাইডলাইন আপনার কাছে মূল্য বহন না করে, কিংবা ভাবমূর্তি ধারণাটাই বায়বীয় ঠেকে?

বরং মোশাররফ করিম চঞ্চলের বিশ্বস্ত কর্মচারী হয়ে তারই প্রণয়িনীর প্রতি আকৃষ্ট, প্রণয়িনী তিশা তাকে দমনের পরিবর্তে মৃদু প্রশ্রয় দেয়ার যে ইঙ্গিত— এটা বরং ফারুকীর নারী ক্যারেক্টারাইজেশন সংক্রান্ত কমন ফ্রেমওয়ার্ক। ব্যাচেলরের অপি করিম, জয়া আহসান, চড়ুইভাতির ইলোরা গওহর, থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বারের তিশা প্রতিটি নারী ক্যারেক্টারের কোর-ইনস্টিংট প্রায় অভিন্ন। এই প্যাটার্নটা নিয়ে বরং সমালোচনা হওয়া উচিত, কিন্তু হয় না।

মোশাররফ করিমের ক্যারেক্টারাইজেশন টেলিভিশনের পৃথক ইন্টারপ্রেটেশন জানান দেয়। অন্তিম সিকুয়েন্সে সে যখন গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তার কল্পনার টেলিভিশনে তিশাকে নিজের মনমতো চরিত্র দিয়ে নিবে। বিভ্রান্ত ও দুর্বলচিত্তের বসকে প্রেমে সবরকম সহায়তা করে, অথচ মিসগাইড করলেই নিজের আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার প্রেক্ষাপট তৈরি হত। মোশাররফ নেয়নি সে সুযোগ। তার চরিত্রের এই কমপ্লেক্সিটিটাই টেলিভিশন সিনেমার দর্শনযোগ্য উপকরণের মধ্যে ২ নম্বরে স্থান পাবে।

ফারুকীর ফিল্মগুলোতে সিম্বলের ব্যবহার থাকে, অতি অগুরুত্বপূর্ণ সব সিনে, মনোযোগ দিয়ে না দেখলে দৃষ্টি এড়িয়ে যাবে। একটা শিশু, তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী প্লাস্টিকের গাড়ি। টয়লেটে গেছে  প্লাস্টিকের গাড়ি সামনে রাখা; নৌকায় পাড় হচ্ছে নদী পানিতে ভেসে যাচ্ছে প্লাস্টিকের গাড়ি। কারণে-অকারণে এতবার প্লাস্টিকের গাড়িটা স্ক্রিন প্রেজেন্স পেয়েছে মানে পরিচালক কিছু একটা বলতে চান। গাড়িটা প্রগতি, নাকি পরিবর্তনীয় আগামী— নিশ্চিত হতে না পারলেও উপভোগ করেছি। ফিল্মের প্রায় সমস্ত স্মৃতি মুছে গেলেও প্লাস্টিকের গাড়ি স্থায়ীভাবে আবাসন পেয়ে গেছে মনে হচ্ছে।

ফারুকীর স্থলে টেলিভিশন যদি হতো আমার প্রজেক্ট আমি হালাল টেলিভিশন আর ভিসা-পাসপোর্ট ইস্যু দুটোকে আরো কোরিলেট করার চেষ্টা করতাম, তিশার ক্যারেক্টারে আরো কয়েকটা অ্যাঙ্গেল যুক্ত করতাম, হজের অংশটা বাদ দিতাম। সুনির্দিষ্ট কোনো ধর্মের অনুসরণ অথবা অনুসরণহীনতা দুটোকেই একই পাল্লাতে পরিমাপ করি, কিন্তু ধর্ম বিরোধিতা অথবা ধর্মকেন্দ্রিক উগ্রতা দুটোই একই ধাঁচের মৌলবাদিতা। এই প্রবণতার পক্ষে অবস্থান নেয়া আমার জন্য আনকমফোর্টেবল। কিন্তু ফেস্টিভালপ্রিয় ফারুকীর প্লট বাছাইয়ে এসব বায়াসকে পাশ কাটানো এজীবনে আর সম্ভব নাও হতে পারে।

দিলারা হাফিজের গণশিক্ষার আসর মিস করি।


লেখক সম্পর্কে বিস্তারিত

মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়

লেখক ও বায়োপিক এনালিস্ট

মন্তব্য করুন

Shares