Select Page

দিল্লির হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রবীর মিত্র

দিল্লির হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রবীর মিত্র

বর্ষীয়ান অভিনয়শিল্পী প্রবীর মিত্র ভারতের দিল্লির এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন; তার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হবে কি না, সে বিষয়ে সপ্তাহ খানেক পর চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছে পরিবার। খবর বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর।

অস্টিওপরোসিসসহ (হাড়ক্ষয়) বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে কয়েক বছর ধরেই চার দেওয়ালে বন্দি জীবন কাটছিল ৮১ বছর বয়সী এ অভিনয়শিল্পীর।

প্রবীর মিত্রের পুত্রবধূ সোনিয়া ইসলাম জানান, গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে দিল্লি নেওয়ার পর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়; চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাত দিনের বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

বছর তিনেক ধরে দেশের কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও উন্নতি না মেলায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দিল্লি নেওয়া হয়েছে তাকে। সেখানে তার বোন বসবাস করেন; হাসপাতাল থেকে আপাতত বোনের বাসায় বিশ্রামে আছেন প্রবীর মিত্র।

সোনিয়া ইসলাম জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার হাড়ক্ষয় ছাড়া আর কোনো রোগ ধরা পড়েনি; চিকিৎসরা ওষুধ দিয়েছেন। তার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার লাগবে কি না-তা সপ্তাহ খানেক পর চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবেন।

২০২০ সালের জুলাইয়ের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠেন প্রবীর মিত্র।

কয়েক বছর আগেই অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন তিনি। সহশিল্পীদের মধ্যে অনেকের সঙ্গেই আর যোগাযোগ নেই তার। পত্রিকা পড়ে, টিভি দেখে সময় কাটে তার।

স্কুলজীবনে প্রথমবারের মতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ডাকঘর’ নাটকে প্রহরীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রবীর মিত্র। পরবর্তীতে পরিচালক এইচ আকবরের হাত ধরে ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েছে বড়পর্দায় তার অভিষেক হয়। ছবির গল্প ও সংলাপ লিখেছিলেন তারই স্কুল জীবনের বন্ধু এটিএম শামসুজ্জামান। এটি নায়ক ফারুকেরও প্রথম ছবি।

প্রায় চার দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিতাস একটি নদীর নাম, দুই পয়সার আলতা, বড় ভালো লোক ছিল, বেদের মেয়ে জোসনাসহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

সবশেষ এসডি রুবেলের পরিচালনায় ‘বৃদ্ধাশ্রম’ নামে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি; তবে ছবিটি এখনও মুক্তি পায়নি। ওই ছবির পর বয়সজনিত কারণে আর ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি প্রবীর মিত্র।

অভিনয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ে জন্য পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান প্রবীর মিত্র। ২০১৮ সালে পান আজীবন সম্মাননা।

১৯৪০ সালে চাঁদপুরে জন্ম নেওয়া প্রবীর মিত্রের শৈশব কেটেছে পুরান ঢাকায়। পড়াশোনা করেন সেন্ট গ্রেগরি হাইস্কুল ও জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)।

তার তিন ছেলে, এক মেয়ে। স্ত্রী অজন্তা মিত্রকে ২০০০ সালে হারানোর পর ২০১২ সালে তার ছোট ছেলে আকাশও পরপারে পাড়ি জমান।

প্রবীর মিত্রের বাবা গোপেন্দ্র নারায়ণ মিত্র ও মা অমিয় বালা মিত্র। তার দুই বোন, সরস্বতী বসু ও রমা সরকার; ভাই সুবীর কুমার মিত্র।


আমাদের সুপারিশ

মন্তব্য করুন

ই-বুক ডাউনলোড করুন

BMDb ebook 2017

Shares