পুরনো সিনেমার নতুন নামসহ মানহীন হওয়ার অভিযোগে একই প্রযোজকের ছয় সিনেমার সার্টিফিকেশন আবেদন বাতিল
প্রতারণা ও চরম মানহীনতার অভিযোগে প্রযোজক মনজুরুল ইসলাম মেঘ প্রযোজিত ছয়টি চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন আবেদন বাতিল করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। একই সঙ্গে প্রতারণার দায়ে কেন ওই প্রযোজকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা জানতে চেয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। খবর আজকের পত্রিকা।

গত ৩০ জুলাই সিনেমাগুলো ছাড়পত্রের জন্য বোর্ডে জমা দেওয়া হয়েছিল। গত ১২ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্যরা সিনেমাগুলো নিরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
বাতিল হওয়া সিনেমার তালিকা ও অভিযোগের ধরন
নকল ও প্রতারণার অভিযোগ:
পাহাড়ের আর্তনাদ (পরিচালক: মিজানুর রহমান লাবু): ২০২২ সালে ছাড়পত্র পাওয়া ‘যমজ ভূতের গল্প’ সিনেমার সঙ্গে হুবহু মিল। কেবল প্রযোজক, প্রতিষ্ঠানের নাম ও সিনেমার শিরোনাম বদলে নতুন করে জমা দেওয়া হয়েছে।
বনদস্যু (পরিচালক: মিজানুর রহমান লাবু): ২০২৩ সালে ছাড়পত্র প্রাপ্ত ‘আমার অরণ্য’ সিনেমার কাহিনি, সংলাপ ও দৃশ্যের হুবহু অনুকরণ।
মানহীনতা ও অশ্লীলতার অভিযোগ:
পরিণাম (পরিচালক: মঈনউদ্দিন খান)
রঙ্গশালা (পরিচালক: পীযূষ কান্তি সেন)
রক্ত পিপাসা (পরিচালক: সজিব হোসেন)
রসু খাঁ (পরিচালক: মিজানুর রহমান লাবু)
সার্টিফিকেশন বোর্ড জানিয়েছে, শেষোক্ত চারটি সিনেমায় অপ্রাসঙ্গিক ও অশ্লীল সংলাপ, ভয়াবহ মদ্যপান ও ধূমপানের দৃশ্য প্রদর্শন এবং চরম নিম্নমানের নির্মাণশৈলী ধরা পড়েছে। চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩-এর ৫(১২) ধারা অনুযায়ী এসব সিনেমা সমাজের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনা করে প্রদর্শনের অযোগ্য ও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
পুরনো সিনেমা নাম বদলে জমা দেওয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে চিঠি পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে প্রযোজক মনজুরুল ইসলামকে।
প্রযোজক মনজুরুল ইসলামের প্রতিক্রিয়া
সব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে প্রযোজক মনজুরুল ইসলাম বলেন, “পরিচালক সমিতির শাহীন সুমন ও এফডিসির এমডির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় প্রতিহিংসাবশত আমার সিনেমাগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে।”
নকলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগে ছাড়পত্র পাওয়া সিনেমা দুটি আমি কিনে নাম পরিবর্তন করে জমা দিয়েছি। আবেদন ফরমে বিষয়টি উল্লেখ করার কোনো সুযোগ ছিল না। বোর্ড জানতে চাইলে আমি কেনাবেচার বৈধ কাগজপত্র দেখাব।”
তিনি আরও দাবি করেন, চিঠি আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার আগেই তা বিভিন্ন সংগঠনের কাছে ছড়িয়ে দিয়ে পরিচালকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে চিঠির ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান এই প্রযোজক।






