পারফেক্ট প্লেব্যাক সিঙ্গার ডলি সায়ন্তনী
ডলি সায়ন্তনী… নামের মধ্যেই একটা সৌন্দর্য আছে। তার কণ্ঠ ব্যতিক্রমী। অনেক শিল্পীর ভেতর থেকেও আলাদা করা যায় এমন কণ্ঠ তার। আধুনিক গান, ফোক গানের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অনেক গানে প্লেব্যাক করেছে।
‘কালিয়া রে কালিয়া, কোন বা পথে নিতাইগঞ্জ যাই, বিষম পিরিতি’ অ্যালবামের এ গানগুলোতে একসময় সারাদেশে আলোড়ন তুলেছিল ডলি সায়ন্তনী। অ্যালবামের গান পরে চলচ্চিত্রেও ব্যবহার হয়।
চলচ্চিত্রে যে ধরনের কণ্ঠ পরিপূর্ণভাবে মানায় ডলি সায়ন্তনীর কণ্ঠে সে উপাদান ছিল পারফেক্ট।

ডলি-র প্লেব্যাক করা উল্লেখযোগ্য ছবি— উত্থান পতন, ম্যাডাম ফুলি, পাগলা ঘণ্টা, কুলি, টাইগার, অনন্ত ভালোবাসা, কে আমার বাবা, কারাগার, চার সতীনের ঘর, জীবন মরণের সাথী, লালচর, বস নাম্বার ওয়ান, ডন নাম্বার ওয়ান, প্রিয়া আমার জান, ফুল অ্যান্ড ফাইনাল, লালচর, মেয়েটি এখন কোথায় যাবে।
তার ছায়াছবির গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য
রংচটা জিন্সের প্যান্ট পরা – উত্থান পতন, আমি একশো বছর তোমারই, বলোতো আমি তোমার কে – পাগলা ঘণ্টা, বিষম পিরিতি – কে অপরাধী, বিষম পিরিতি – আমার দেশ আমার প্রেম, এই জন্মটাও একবার – কারাগার, তোমাকে দেখলে ইচ্ছে করে , হ্যাপি নিউ ইয়ার – ম্যাডাম ফুলি, লোকে বলে সুন্দরী – ভণ্ড, প্রতিদিন তোমাকে চাই – আমার অন্তরে তুমি, তোমাকে নিয়ে আমি বাঁধব – ভালোবাসার ঘর, জন্মটা একবার মৃত্যুও একবার – কারাগার, বুক চিনচিন করছে হায় – বাস্তব, একঝাঁক পাখি ওড়ে আকাশে – কালো চশমা, দিনগুলো যায় চলে যায় – কালো চশমা , তোমার ঐ মিষ্টি হাসি – অনন্ত ভালোবাসা, যেখানে যাই যেখানে – ফুল অ্যান্ড ফাইনাল, এক দেখাতে জানাশোনা – আমার চ্যালেঞ্জ, আকাশ বাতাস সাক্ষী রেখে – অন্যরকম ভালোবাসা, ছিয়া বুড়ি – লালচর এবং মনের মধ্যে – মেয়েটি এখন কোথায় যাবে।
ডলি সায়ন্তনী-র অ্যালবাম ও ছবিতে ব্যবহৃত গানের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘রংচটা জিন্সের প্যান্ট পরা।’ ‘উত্থান পতন’ ছবির জন্য পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন তাকে নির্বাচন করেন। খোকন সাহেব ডলি-র গান খুব পছন্দ করতেন। তাঁর প্রায় ছবিতেই ডলি-র গান থাকত। গানটি ব্যবহারের আগে ডলিকে অভিনেতা সোহেল রানা-র কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। খোকন সাহেব সোহেল রানার পরামর্শ গ্রহণ করতেন অনেক। সোহেল রানা খুব সজাগ থাকতেন যে কোনো বিষয়ে। ডলি-র কাছে গানটি শুনে তিনি মত দেন কাজে লাগানোর। গানটি ছবিতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ছবি মুক্তির পরে ডলি দেখতে গিয়েছিল বলাকা সিনেমাহলে। গান আসা মাত্র দর্শকের করতালি ও শিসে ডলি মনে করেছিল তার পরিশ্রম সার্থক।
‘বিষম পিরিতি’ গানটিও অ্যালবামের এবং পরে ছবিতে ব্যবহৃত হয়। এ গানটি দুটি ছবিতে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘কে অপরাধী’ ছবিতে আইটেম সং এর আদলে ব্যবহৃত হয়েছে। পারফর্ম করেছিল আহমেদ রুবেল ও সহশিল্পী। ‘আমার দেশ আমার প্রেম’ ছবিতে ইলিয়াস কাঞ্চন-দিতি পারফর্ম করেছিল। ডিজিটাল ছবিতেও নিজের প্রতিভা দেখিয়েছে। ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’ ছবিতে ববি-র লিপে ‘যেখানে যাই যেখানে’ গানটিতে অসাধারণ কণ্ঠ দিয়েছে। গানটি জনপ্রিয়।
ডলি সায়ন্তনী সফল প্লেব্যাক সিঙ্গার চলচ্চিত্রে। নিজস্বতা বজায় রেখে গান করে গেছে। এখনো তাকে প্লেব্যাকে কাজে লাগানো যায় যদি বর্তমান নির্মাতারা চান।






