শাকিব খান শুধু অভিনয় করেই নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না, তাকে ইন্ডাস্ট্রির চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে
সত্যি কথা হচ্ছে, শাকিব খান এখন তার ইন্ডাস্ট্রির চেয়ে বড়। ঢালিউড তাকে ধারণ করতে পারছে না। শাকিবের জন্য যে বাজেট বরাদ্দ হচ্ছে, তা দিয়ে ৫টা ভাল মানের বাংলা ছবি করা যায়। তাকে যে পারিশ্রমিক দেয়া হয়, তা দেশের সব নায়কের পারিশ্রমিকের যোগফলের চেয়ে বেশি।

শাকিব খানের বয়স ৫০ ছুঁইছুঁই। তার সসমাসয়িক সমস্ত নায়িকা অবসরে চলে গেছেন। তিনি যতটা ক্ষিপ্রতায় দৌড়েছেন, তার কোনো নায়িকা সেই গতিতে ছুটতে পারেননি। তার জন্য নায়িকা আনতে হয় ভিনদেশ থেকে। কেননা দেশের অভিনেত্রীরা প্রস্তুত নন এমন লম্বা রেসের ঘোড়ার সঙ্গে দৌড়ানোর জন্য। দেশ থেকে নায়িকা নিলে তার সঙ্গে মানায় না। হাঁটুর বয়সী কাউকে তার বিপরীতে কাস্ট করতে হয়!
শাকিব শত হিট-সুপারহিট গল্পের নায়ক। তার জন্য গল্প লেখার মতো লেখক খুঁজে পাওয়া যায় না দেশে। এই মানের তারকার উপযোগী গল্প লেখার মতো অভিজ্ঞ হাত কোথায়?
একই কথা নির্মাতার বেলায়ও বলা যায়। তরুণ পরিচালকরা ১০/১৫ কোটি টাকার প্রযোজক জুটিয়ে শাকিবকে কাস্ট তো করে ফেলছেন। কিন্তু তাকে নির্দেশনা দিতে গিয়ে করে ফেলছেন লেজেগোবরে। এ তো ৫/১০ ছবির সুপারস্টার নয়, প্রায় ৩০ বছরের সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারের এক ঝানু ও পাকা অভিনেতা শাকিব। তাকে পরিচালনার ক্ষমতা দেশের কয়জন পরিচালকের আছে?
এটা ঢালিউডের ব্যর্থতা। শাকিব খান যেভাবে নিজের ওজন ও জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি সেভাবে নিজের চাকা সচল রাখতে পারেনি। হাজার সিনেমা হলের ইন্ডাস্ট্রি হয়ে গেছে শত সিনেমা হলের ইন্ডাস্ট্রি। সেই শত প্রেক্ষাগৃহও খোলে কেবল দুই ঈদে যখন শাকিব খানের ছবি রিলিজ হয়!

সিনেমা শিল্পে বড় ব্যানার নেই, দক্ষ প্রযোজক নেই। আনকোরা লোকজন এসে পুঁজি ঢালছেন শাকিব খানের ওপর। তারা বাজেট করছেন ১০ কোটি টাকা, সেই বাজেট ছবি শেষ হতে-হতে পৌঁছে যাচ্ছে ১৫ কোটি টাকায়। এই অনভিজ্ঞতা, এই অপেশাদরত্ব ভোগাচ্ছে শাকিব খানকে। তার ধাবমান ক্যারিয়ারের গতি দিচ্ছে থমকে।
শাকিব খান যখন সিনেমার আঙিনায় পা দেন, তখন কুশলী পরিচালকের কোনো কমতি ছিল না, সমঝদার প্রযোজকের অভাব ছিল না। তার পর্যাপ্ত নায়িকা ছিল, সুরকার ছিল, টেকনিশিয়ান ছিল। আড়াই দশকের ব্যবধানে তার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা শিল্পী-কুশলীরা সবাই শ্রান্ত, অবসন্ন। কেবল তিনি ছুটে চলেছেন…।
শাকিবকে এখন কাজ করতে হচ্ছে নতুনদের সঙ্গে। তার প্রত্যেকটা প্রজেক্ট নতুন মুখ। যারাই তার সঙ্গে কাজ করছেন, টেকনিশিয়ান থেকে টাকা-ঢালা প্রযোজক পর্যন্ত—সকলেই তরতাজা। ফলে অবধারিত অনভিজ্ঞতার সঙ্গে তাকে লড়াই করতে হচ্ছে, কঠিন কসরৎ করতে হচ্ছে।
পুরো ঢালিউড এখন শাকিব খানের ওপর নির্ভরশীল। তিনি কেবল তার অভিনয়টা করে নিশ্চিন্তে রাতে ঘুমাতে যেতে পারছেন না। তাকে ইন্ডাস্ট্রির চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। দুটো ঈদে তাকে দুটো ছবি দিতেই হবে। সেই ছবিগুলো আবার কোনোমতেই ফ্লপ করা চলবে না। অন্য কোনো নায়ক এসে তার এই চাপ কমিয়ে দিচ্ছে না, দিতে পারছে না। কেউ এসে বলতে পারছে না—’আপনি এবার জিরোন। ১০০ সিনেমা হলের দর্শক টানার দায়িত্ব আমি নিলাম। সিঙ্গেল স্ক্রিন সব আমি দেখছি!’






