Select Page

সময়ের গল্প-মুখোশ মানুষ

সময়ের গল্প-মুখোশ মানুষ

টিকেট কাউন্টারের ভেতর থেকে সেলসম্যান মাথা এগিয়ে দিল- ম্যাডাম, আপনার সাথে কী কোন বাচ্চা আছে? আমি অবাক বিস্ময়ে না সূচক মাথা নাড়লাম- বাচ্চাতো দূরে, আমার সাথে কেউ নাই। তিনি ইতস্থত করলেন- আসলে সিনেমাটা এডাল্টদের জন্যতো, তাই। আমি তাকে আস্বস্ত করলাম – আমি মুভি আলোচক, প্রমো দেখেই এসেছি। কোন অসুবিধা নেই, একটা টিকেট দিন একদম মিডেলে।

বৃহষ্পতিবার বিকেল, কিন্তু উপচে পড়া ভীর নেই হলে। ইউটিউবে মুখোশ মানুষ নিয়ে যেভাবে নিন্দার ঝড় উঠেছে তাতে বোধ করি বাঙালী ভয় পেয়ে গেছে, তাই হল ভর্তি দর্শক নেই। জোড়াদের সংখ্যাই বেশী। যে দেশে বাংলা সিনেমার নায়িকার মুখে শোনা যায়- “আমি খুব সেক্সি এন্ড হট,আমাকে দেখে তুমি পাগল হয়ে যাবে” এর চাইতে এডাল্ট সিনেমা আর কি হতে পারে!

সাইবার ক্রাইম নিয়ে সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে। ছবিতে দেখানো হয়েছে মেয়েরা ভালোবেসে কিভাবে ছেলেদের কাছে প্রতারিত হচ্ছে,পাশাপাশি একজন বিশ্বস্ত সংগীর স্পর্শ চমৎকার ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বিছানার সব দৃশ্যই আমার চোখে সাবলিল লেগেছে শুধুমাত্র আউটডোরে নওশিন অর্থাৎ নীলের স্বল্প বসনা ছাড়া। এ দেশের প্রেক্ষাপটে এই দৃশ্যগুলো মানানসই নয়, একজন সাংবাদিক হিসেবে তাকে প্রথম দৃশ্যতে খুব বলিষ্ট মনে হয় নি। জয়ের চরিত্র রূপায়নে হিল্লোল একশতভাগ সফল, তার নেগেটিভ চরিত্রের ইমেজ খুব মানিয়ে গেছে। কেয়ারিং স্বামীর ভূমিকায় কল্যাণ তার পুরোটাই দিতে পেরেছে, কিন্তু ছবির একদম শেষ দৃশ্যে প্রসূন আজাদের সাথে অট্টোহাসিতে নায়ক বনে যাবার কারন কি তা একমাত্র পরিচালক বলতে পারবেন।


এই ছবির সব চাইতে মনোমুগ্ধকর হলো সাজানো গোছানো সেট, অঙ্গসজ্জাকে বাহবা না দিলেই নয়। ক্যামেরায় যিনি ছিলেন তাকে যথেষ্ট দক্ষ মনে হয়েছে, বিশেষ করে উপর থেকে ধরা দৃশ্যগুলো খুব নিখুঁত।

ইন্টারপোল অফিসারের ভূমিকা – আমার বোধগম্য নয়। রাজাকে পাঁচ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে নিজেই গায়েব হয়ে গেল কেন বুঝলাম না। সিনেমা এডিট করার সময় শুরু থেকে শেষ অব্দি ধারাবাহিকতা না ধরে রাখলে দর্শক খেই হারিয়ে ফেলে।

আমাদের চারপাশে হাজার হাজার মানুষ মুখোশ পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।আমরা ক’ জন তাদের চিনতে পারি, এজন্যই দরকার খোলামেলা আলোচনার। হাসপাতাল থেকে বাচ্চা কেনা যায় এই ধরণের ফালতু তথ্য না দিয়ে আপনার টিন এজ সন্তানকে সঠিক তথ্য দিন। তারা লুকিয়ে চুকিয়ে অনেক কিছুই করে, না বুঝেই করে। তাই আমার মনে হয়, সন্তানদের সাইবার ক্রাইম সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলা উচিৎ। ভয়টা যে কেবল মেয়েদের তা নয়, ছেলেদের গায়েও কলংকের দাগ লাগে।পুরুষ বলেই সে সমস্ত কালিমার উর্ধ্বে এমন ভেবে নেবার কোন কারন নেই। ছেলেরাও অনেক সময় ভিডিও ক্যামেরায় ফেঁসে যায়।

যে দেশে ছেলেরা সুস্থির থাকবে সে দেশে মেয়েরাও নিরাপদে থাকবে। বাংলা সিনেমা এমনভাবে বস্তুনিষ্ঠ কাহিনী নিয়ে এগিয়ে চলুক।


অামাদের সুপারিশ

মন্তব্য করুন

ই-বুক ডাউনলোড করুন

BMDb ebook 2017

স্পটলাইট

Saltamami 2018 20 upcomming films of 2019
Coming Soon
বাংলা সিনেমা ২০১৯ সালে কেমন যাবে?
বাংলা সিনেমা ২০১৯ সালে কেমন যাবে?
বাংলা সিনেমা ২০১৯ সালে কেমন যাবে?

[wordpress_social_login]

Shares