Select Page

সালতামামি ২০১৯: দশকের সবচেয়ে বাজে বছর

সালতামামি ২০১৯: দশকের সবচেয়ে বাজে বছর

২০১৯ এই শতকের দ্বিতীয় দশকের শেষ বছর। বলা হয়ে থাকে, শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। কিন্তু বাংলাদেশি চলচ্চিত্র শিল্পের দিকে তাকালে দেখা যায় যে এই বছরই এই দশকের সবচেয়ে বাজে বছর।

এই বছরে মুক্তি পেয়েছে দেশি ৪৫টি চলচ্চিত্র, যা এই দশকের সর্বনিম্ন, দুটি যৌথ প্রযোজনার এবং ১০টি ভারত থেকে আমদানিকৃত বাংলা চলচ্চিত্র। ২০১৭ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ৫৮ এবং ২০১৮ সালে ছিল ৫০, যা বাংলাদেশী চলচ্চিত্র শিল্পে এই দশকে চলচ্চিত্র মুক্তির সংখ্যা কমতে থাকার ধারাবাহিকতাকে নির্দেশ করে। অর্থাৎ এই বছরটিও চলচ্চিত্র মুক্তির দিক থেকে হতাশাই বাড়িয়েছে।

তেমনভাবেই এই বছরে হিট ও আলোচিত চলচ্চিত্রের সংখ্যাও অন্য যে কোন বছরের তুলনায় অনেকাংশে কম। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও হল মালিকদের মত অনুসারে এই বছরের একমাত্র হিট চলচ্চিত্র ‘পাসওয়ার্ড’। এছাড়া গড়পড়তা ব্যবসা করেছে ‘যদি একদিন’, ‘নোলক’, ‘আব্বাস’ ও ‘সাপলুডু’।

১. এক নজরে ২০১৯
আই অ্যাম রাজ, আমার প্রেম আমার প্রিয়া, দাগ হৃদয়ে, ফাগুন হাওয়ায়, রাত্রির যাত্রী, অন্ধকার জগৎ, হৃদয়ের রংধনু, প্রেম আমার ২ (যৌথ), বয়ফ্রেন্ড, যদি একদিন, বউ বাজার, কারণ তোমায় ভালোবাসি, লাইভ ফ্রম ঢাকা, তুই আমার রানি (যৌথ), প্রতিশোধের আগুন, আলফা, আবার বসন্ত, আলোয় ভুবন ভরা, দি ডিরেক্টর, নোলক, পাসওয়ার্ড, ভালোবাসার উত্তাপ, আব্বাস, অনুপ্রবেশ, কালো মেঘের ভেলা, গোয়েন্দাগিরি, আকাশ মহল, ভালোবাসার রাজকন্যা, মনের মতো মানুষ পাইলাম না, ভালোবাসার জ্বালা, ভালোবাসা ডট কম, অবতার, মায়াবতী, পাগলামী, সাপলুডু, ডনগিরি, পদ্মার প্রেম, বেগম জান, ইতি, তোমারই ঢাকা, ন ডরাই, ইন্দুবালা, প্রেম চোর, গার্মেন্টস শ্রমিক জিন্দাবাদ, গহীনের গান, ফরায়েজী আন্দোলন, কাঠবিড়ালী ও মায়া।

কাঠবিড়ালী চলচ্চিত্রটি ১টি হলে সীমিত পরিসরে মুক্তি পায় এবং আগামী বছর বৃহৎ পরিসরে মুক্তি পাবে। এছাড়া গত বছরের নভেম্বরে সীমিত পরিসরে মুক্তি পাওয়া লিডার চলচ্চিত্রটি এই বছর ২২ মার্চ, এবং বেপরোয়া ১২ আগস্ট ঈদুল আযহায় বৃহৎ পরিসরে মুক্তি পায়।

২. ব্যবসাসফল ও আলোচিত চলচ্চিত্র
২০১৯ সালের একমাত্র হিট চলচ্চিত্র হল ‘পাসওয়ার্ড’। যদিও সুনির্দিষ্ট আয় বা বাজেটের হিসাব পাওয়া যায়নি। শাকিব খানের প্রযোজনায় মালেক আফসারী পরিচালিত চলচ্চিত্রটি ঈদুল ফিতরে ১৭৭টি হলে মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি ফ্রান্সের ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ ও দক্ষিণ কোরিয়ার ‘দ্য টার্গেট’ চলচ্চিত্রের সাথে চিত্রনাট্যের মিল থাকার জন্য নেতিবাচক সমালোচনাও অর্জন করে। তবে বছরের শেষভাগে এই বছর প্রবর্তিত ভারত-বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কারে জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে।

বছরের প্রথম মাস প্রায় চলচ্চিত্র শূন্য (১টি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়) থাকার পর ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে আলোচনায় আসে তৌকীর আহমেদের বহুল প্রত্যাশিত ‘ফাগুন হাওয়ায়’। ঢাকার বাইরে একটি মফস্বল শহরে ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে টিটো রহমানের ‘বউ কথা কও’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্রটি ইতিবাচক ও কিছু ক্ষেত্রে মিশ্র সমালোচনা লাভ করে। মার্চ মাসের শুরুতে বাবা-মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত ‘যদি একদিন’ দর্শকদের মাঝে উৎসাহের সৃষ্টি করে। পারিবারিক বন্ধন ও বন্ধুত্ব এই চলচ্চিত্রের ইতিবাচক দিক হলেও ছবিটি গড়পড়তা ব্যবসা করে।

মার্চ মাসের শেষভাগে মুক্তি পায় ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’। সিঙ্গাপুর চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত, এবং লোকার্নো, রটারডাম, ও সিনেইউরোপা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত চলচ্চিত্রটি ট্রেলার প্রকাশের পর দর্শকদের মনে আগ্রহের সঞ্চার করে। ঢাকার অস্বস্তিকর জীবন থেকে মুক্তি লাভের আশায় মরিয়া হয়ে ওঠা এক শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকের জীবন সংগ্রাম এই চলচ্চিত্রের মূল বিষয়বস্তু। স্বল্প বাজেটে সাদাকালোয় সুন্দর নির্মাণ, পরিমিত অভিনয়, ও বাস্তবধর্মী গল্প দিয়ে চলচ্চিত্রটি কেবল সিনেপ্লেক্সে চললেও দর্শকদের মন কেড়েছে।

এপ্রিলে মুক্তিপ্রাপ্ত নাসিরউদ্দীন ইউসুফের ডার্ক ঘরানার ‘আলফা’ চলচ্চিত্রটি আলোচনায় আসে। একজন একাকী রিকশা পেইন্টারের চোখে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি ফুটে ওঠেছে এই ছবিতে। এটি অস্কারে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে বাংলাদেশ থেকে প্রেরণ করা হয়, যদিও সেটি চূড়ান্ত মনোনয়ন পায়নি।

ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নোলক’ ও ‘আবার বসন্ত’ মুক্তির পূর্বে আলোচনায় আসে। ‘নোলক’ এর পরিচালক পরিবর্তন ও প্রযোজকের পরিচালকের ভূমিকায় আসা, প্রধান অভিনেতা শাকিব খানের ছবিটির প্রচারণা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া-সহ বিভিন্ন কারণে আলোচনায় আসে। বনেদী পরিবারের দুই ভাইয়ের সুসম্পর্ক ও পরে তাদের দুই সন্তানদের বিয়ে সম্পর্কিত জটিলতা নিয়ে বিয়োগান্ত চলচ্চিত্রটি গড়পড়তা ব্যবসা করে। অন্যদিকে, অসম বয়সী প্রেম নিয়ে নির্মিত ‘আবার বসন্ত’ আলোচনায় আসলেও ব্যবসা সফলতা অর্জন করতে পারেনি।

জুলাই মাসে পুরান ঢাকার প্রেক্ষাপটে নির্মিত সাইফ চন্দনের ‘আব্বাস’ মোটামুটি ব্যবসা করলেও চূড়ান্তভাবে সফল হয়নি।  ঈদুল আযহায় মুক্তিপ্রাপ্ত জাকির হোসেন রাজুর ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ অভিনয়সমৃদ্ধ হলেও নির্মাণে তাড়াহুড়ো ও দুর্বলতার জন্য দর্শক ছবিটি পছন্দ করেননি। সেপ্টেম্বরে মুক্তি পায় বহুল প্রতীক্ষিত ‘সাপলুডু’। রাজনৈতিক থ্রিলার ঘরানার ছবিটি দর্শক গ্রহণ করেছেন এবং কেউ কেউ আবার থ্রিলারের পরিবর্তে বিনোদিত হয়েছে। ছবিটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে উৎসাহ দেখা গেলেও ছবিটি ব্যবসা সফল হয়নি, বরং গড়পড়তা ব্যবসা করে।

বছরের শেষদিকে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিন পর অমনিবাস চলচ্চিত্র নিয়ে আসে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। অমনিবাস চলচ্চিত্র বাংলাদেশে নতুন নয়, তবে খুব প্রচলিতও নয়। এর আগে সুভাষ দত্তের ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ নামে একটি অমনিবাস চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৭ সালে। যাই হোক, ১১ পরিচালকের ১১টি গল্পের অমনিবাস চলচ্চিত্র ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ ঢাকার জীবনের খণ্ড খণ্ড চিত্র তুলে ধরে। চলচ্চিত্রটি নিয়ে দর্শকের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেলেও অল্প সংখ্যক হলে মুক্তি ও সবকয়টি খণ্ড আশানুরূপ না হওয়ার দর্শক খরায় ভোগে। নভেম্বরের শেষভাগে আলোচনায় ওঠে আসে তানিম রহমান অংশুর সার্ফিং নিয়ে নির্মিত ‘ন ডরাই’। সেন্সর জটিলতার কারণে চলচ্চিত্রটি ঢাকার বাইরে মুক্তি পায়নি। তবে দুজন সার্ফারের জীবন সংগ্রামের গল্পের পাশাপাশি রক্ষণশীল সমাজের বেড়াজালে বন্দি নারীর জীবনযুদ্ধের চিত্রায়ন ছবিটিতে অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।

৩. আলোচিত অভিনয়শিল্পী
তারকাদের দিক থেকে এই বছরের সফলতম তারকা বরাবরের মতই শাকিব খান। তার তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে, তন্মধ্যে ‘পাসওয়ার্ড’ হিট হয়েছে এবং বাকি দুটি আলোচনায় ছিল কিন্তু ব্যবসা সফল হয়নি। তবে তিনি পাঁচ বছর পর প্রযোজনায় ফিরে আসা, জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং তার চতুর্থ জাতীয় পুরস্কার লাভ করে আলোচনার শীর্ষে ছিলেন। অন্যদিকে বাপ্পি চৌধুরীর তিনটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেও সফলতার দেখা পায়নি একটিও। ইমনের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা তিনটি চলচ্চিত্র – ‘ভালোবাসার উত্তাপ’, ‘আকাশ মহল’ ও ‘বেগম জান’ লজ্জায় ডুবিয়েছে। তবে ‘পাসওয়ার্ড’ চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

মোস্তফা মনোয়ার ও শরিফুল রাজ এই বছরের দুজন প্রশংসিত অভিনেতা। মোস্তফা ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ ও রাজ ‘ন ডরাই’ চলচ্চিত্রে তাদের কাজের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। নিরব পুরান ঢাকাইয়া লুকে ‘আব্বাস’ দিয়ে আলোচনায় আসেন। বছর জুড়ে শরীর গঠন আর ব্যায়ামের ছবি দিয়ে আলোচনায় থাকা আরিফিন শুভকে দেখা যায় একটি মাত্র চলচ্চিত্রে। তার ‘সাপলুডু’ চলচ্চিত্রটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া লাভ করে। একই ভাবে, গত বছরে জাজের দুই চলচ্চিত্র দিয়ে অভিষিক্ত সিয়াম আহমেদকে এই বছর কেবল ভাষা আন্দোলন নিয়ে নির্মিত ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিতে দেখা গেছে। ফেরদৌস ও সাইমন সাদিকের কোন চলচ্চিত্র মুক্তি না পেলেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তি তাদের আলোচনায় নিয়ে আসে।

অভিনেত্রীদের মধ্যে এই বছর সেরা কাজ উপহার দিয়েছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, সুনেরাহ বিনতে কামাল ও শবনম বুবলি। ‘ফাগুন হাওয়ায়’, ‘মায়াবতী’ ও ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ ছবিগুলোতে তিশার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। ‘ন ডরাই’ ছবিতে নবাগত সুনেরাহ বাগাড়ম্বরহীন অভিনয় দিয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। অন্যদিকে ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবিতে আবেগী দৃশ্যাবলিতে বুবলির অভিনয় দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে। তবে ‘পাসওয়ার্ড’-এ অল্প উপস্থিতি দিয়ে শুধু আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা করেছেন। মৌসুমী অভিনীত একটি নতুন (‘রাত্রীর যাত্রী’) ও একটি পুরনো (‘লিডার’) ছবি মুক্তি পেলেও কোনটিই আলোচনায় আসতে পারেনি। মীমের ‘দাগ হৃদয়ে’ ব্যর্থ হয় এবং ‘সাপলুডু’ মোটামুটি ব্যবসা করে। ববির একটি নতুন (‘নোলক’) ও একটি পুরনো (‘বেপরোয়া’) ছবি মধ্যম মানের ব্যবসা করে। গত বছরে অভিষিক্ত আলোচিত অভিনেত্রী পূজাকে এই বছর কেবল যৌথ প্রযোজনার ‘প্রেম আমার ২’ ছবিতে দেখা যায়। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব পরি মনিকেও কেবল ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ ছবিতে দেখা যায় এবং এর জন্য তিনি জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

পরিচালকদের মধ্যে আলোচিত ছিলেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, তৌকীর আহমেদ, মালেক আফসারী, তানিম রহমান অংশু। সাদ তার ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ ছবির নান্দনিক কাজের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। ডার্ক ঘরানার ‘আলফা’ দিয়ে নাসির উদ্দিন ইউসুফ এবং ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিতে ভাষা আন্দোলন নিয়ে বড় পরিসরে কাজ করে তৌকীর আহমেদ আলোচনায় ছিলেন। বিদেশি দুটি চলচ্চিত্রের নকল বা তা থেকে অনুপ্রাণিত ‘পাসওয়ার্ড’ নির্মাণ করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব থেকে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন মালেক আফসারী। বছর শেষে তানিম রহমান অংশু সার্ফিং ও সার্ফারদের জীবন নিয়ে ‘ন ডরাই’ ছবি নির্মাণ করে প্রশংসিত হন। এছাড়া ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ চলচ্চিত্রের ১১ পরিচালকের মধ্যে রবিউল আলম রবি, নুহাশ হুমায়ূনসহ কয়েকজনের কাজ প্রশংসিত হয়।

৪. যাদের পেয়েছি
বছর শুরু হয় দুই নবাগত ইব্রাহিম রাজ ও সাবরিনা মামিয়ার ‘আই অ্যাম রাজ’ দিয়ে। তাদের অভিনয় ও গল্পের দুর্বলতার জন্য তাদের নেতিবাচক সমালোচনায় পড়তে হয়। টেলিভিশনে নিয়মিত অভিনয় করা গায়ক তাহসানের এই বছর ‘যদি একদিন’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক ও আবেগ-অনুভূতির গল্পের ছবিটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া লাভ করে। টিভি অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শিয়া অসম বয়সী প্রেম নিয়ে নির্মিত ‘আবার বসন্ত’ এবং ‘কাঠবিড়ালী’ ছবি দুটি দিয়ে বছর জুড়ে আলোচনায় ছিলেন। মডেলিঙে নিয়মিত সুনেরাহ বিনতে কামাল ‘ন ডরাই’ ছবিতে সহজাত ও বাগাড়ম্বরহীন অভিনয় দিয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা রপ্ত করা ও অত্যধিক রুপসজ্জাহীন সাধা-মাঠা চরিত্রে তিনি নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। বছরের শেষভাগে আরেক গায়ক আসিফ আকবর চলচ্চিত্রাঙ্গনে আবির্ভূত হন সঙ্গীতধর্মী ‘গহীনের গান’ নিয়ে। এটি পরিচালনা করেছেন আরেক নবাগত সাদাত হোসাইন, যিনি এই বছর ‘নির্বাসন’ উপন্যাস রচনা করে বইমেলায় আলোচিত ছিলেন। এছাড়া ‘সাপলুডু’ দিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালকের খাতায় নাম লেখান টেলিভিশনের জনপ্রিয় পরিচালক গোলাম সোহরাব দোদুল।

৫. যাদের হারিয়েছি
বছরের প্রথম মাসে বাংলা চলচ্চিত্র হারায় গুনী সঙ্গীত পরিচালক ও সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে। চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার বিজয়ী বুলবুলের অনবদ্য সৃষ্টিসমূহের ছোটতালিকা তৈরি করতে গেলেও তা বিশের অধিক হয়ে যাবে এবং সর্বকালের সেরার তালিকা করলেও সেখানে তার কয়েকটি গান আসবে। মার্চ মাসে ইন্তেকাল করেন সুকন্ঠী শাহনাজ রহমতুল্লাহ। তার গাওয়া তিনটি দেশাত্মবোধক গান বিবিসি’র জরিপে সেরা বিশ বাংলাদেশী গানের তালিকায় স্থান পেয়েছিল। এপ্রিলে মৃত্যুবরণ করেন নন্দিত কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ। তাকে সর্বশেষ অনিমেষ আইচের ‘জিরো ডিগ্রী’ (২০১৫) ছবিতে দেখা গিয়েছিল। মে মাসে পরলোক গমন করেন পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। “আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়”, “পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই”, “কতো যে তোমাকে ভালোবেসেছি”, “ও আমার উড়াল পঙ্খীরে”-সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের কণ্ঠ দিয়ে প্রসিদ্ধ তিনি।

নাট্যব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হলেও কয়েকটি সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনা ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করা মমতাজ উদ্দীন আহমদ এবং প্রবীণ পরিচালক নাজমুল হুদা মিন্টু মৃত্যুবরণ করেন জুনে। সত্তর-আশির দশকে খলচরিত্রে পরিচিত মুখ বাবর আগস্ট মাসে ইন্তেকাল করেন। অক্টোবর মাসে টিভি নাটকের পরিচিত মুখ ও ‘চোরাবালি’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করা হুমায়ূন সাধুর অকাল মৃত্যু হয়। ডিসেম্বর মাসে চিত্রগ্রাহক বিভাগে সর্বোচ্চ সংখ্যক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী মাহফুজুর রহমান খানের প্রয়াণ ঘটে। চিত্রগ্রহণের পাশাপাশি তিনি তার কর্মজীবনের শুরুর দিকে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন।

পরিশেষে, ২০১৯ বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের জন্য মোটেই সুখকর ছিল না। কয়েকটি চলচ্চিত্র ভালো গল্প, নতুনত্ব, নান্দনিকতা প্রদর্শন করলেও বাকিগুলোতে এসব উপকরণের অভাব, ডিজিটালে এখনো মানিয়ে না নিতে পারা ও প্রচারণায় দুর্বলতাকে এই বছর প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে না পারার অন্তরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া এই দশকে দর্শকদের আলোচনার প্রধান বিষয়বস্তু ছিল শাকিব হটাও, যেটা এই বছরও অব্যাহত ছিল, কিন্তু এই বছর শাকিবই একমাত্র হিট চলচ্চিত্র দিয়েছেন। পাশাপাশি ঝিমিয়ে পড়া প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ভরসা না রেখে তিনি একাধিক চলচ্চিত্র প্রযোজনায় নাম লিখিয়েছেন। যাই হোক, আগামী বছরে এই সকল অসংগতিকে পাশ কাটিয়ে সকলে একত্রে কাজ করে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন ঘটিয়ে দর্শকদের চাহিদা মিটাতে পারবে এমন প্রত্যাশা সকলের।


অামাদের সুপারিশ

মন্তব্য করুন

ই-বুক ডাউনলোড করুন

BMDb ebook 2017

Coming Soon
২০২০ সালে বাংলা চলচ্চিত্রের অবস্থা কেমন হবে?
২০২০ সালে বাংলা চলচ্চিত্রের অবস্থা কেমন হবে?
২০২০ সালে বাংলা চলচ্চিত্রের অবস্থা কেমন হবে?

[wordpress_social_login]

Shares