Select Page

অ্যাকশন বাঁচিয়েছে, অনেক জায়গায় হোঁচট ‘মাসুদ রানা’র

অ্যাকশন বাঁচিয়েছে, অনেক জায়গায় হোঁচট ‘মাসুদ রানা’র

২০২৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‌‘ডু অর ডাই’। একই চরিত্র ‌‘মাসুদ রানা’ ও সেই নামেই নিয়ে জাজ মাল্টিমিডিয়ার দ্বিতীয় ছবিটি মুক্তি পেল এবারের ঈদুল আজহা। কাজী আনোয়ার হোসেনের ‌মাসুদ রানা সিরিজ অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করেছেন সৈকত নাসির।

ছবিটিতে দেখা যায়, বিদেশ থেকে চোরাচালানে মাদক বা অন্যান্য বিষয় বাদেও এমন কোন একটা কিছু ঢুকতে চলেছে যা বেশ সন্দেহজনক। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে চোরাচালানটির ব্যাপারে নজরদারি থাকলেও কী জিনিস ঢুকতে চলেছে তা জানা সম্ভব হয়নি। এই চোরাচালানটি থেকে রহস্যময় বিষয়টি বেহাত করে দেয়ার একটি প্ল্যান করে সেনাবাহিনী। সেসময়ই সেনাবাহিনীর মেজর মাসুদ রানা কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে সামনে আসে।

কাজী আনোয়ার হোসেনের লেখা মাসুদ রানার ফ্যান আমি কখনই ছিলাম না। দেখতে সুন্দর, দারুণ ফিটনেস, সব কিছুর সমাধান করে ফেলে দ্রুতই এবং একটু পর পর মেয়েদের সাথে ফ্লার্ট করে -এই টাইপের বিদঘুটে চরিত্র আমার তেমন একটা টানেনি। আমার ধারণা সিনেমায় এই বিষয়ে কিছুটা মেদ কমানো হয়েছে।

ছবিটিতে রয়েছে জেমিনিএআই মার্কা বেশ কিছু ফুটেজ, যা রিয়েল ফুটেজের মাঝে বেশ বেমানান। এছাড়াও রয়েছে হুট করেই ফোরকে থেকে থ্রি সিক্সটি পিক্সেলের ফুটেজে চলে যাওয়া এক অদ্ভুতুড়ে আপডাউন। এই ধরণের রেজুলেশন কেন্দ্রীক ভিন্নতা আমি জীবনেও দেখি নাই। বোঝাই যাচ্ছে, এডিটিংয়ে অনেক জোড়াতালি দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও ছবির নায়িকা পূজা চেরিসহ সব মেয়েকেই যেকোনো মৃত্যু ঝুঁকি থাকা অপারেশনে কড়া লিপস্টিকসহ ভারি মেকআপসহ দেখা যায়। যা আমাদের কাছে নারী ক্ষমতায়নের বিষয়টি সামনে আনে। সঙ্গে সঙ্গে চুড়ান্ত ক্লাইমেক্সে একটি কমান্ডো অপারেশনেও নায়িকাকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে ছবিটি নারীর ক্ষমতায়নের একটি বড় মাইলফলক তৈরি করে।

ছবিটির প্রথম অ্যাক্টে পূজা চেরির কিছু অতি অভিনয় ও তার নারীর ক্ষমতায়ন দেখাতে গিয়ে কিছু বেমানান মারামারি দেখানো হয়, যা সিনেমাটি থেকে কেটে ফেলে দিলে তেমন কিছুই হয় না। এছাড়াও পূজা চেরির চরিত্রটি যথেষ্ট দূর্বল। একবার অ্যাথলেট হিসেবে স্ট্যাবলিশ করা, একবার স্মাগলার হিসেবে কিংবা কর্পোরেট অফিসার হিসেবে স্ট্যাবলিশ করতে গিয়ে ক্যারেক্টারটা স্ট্যাবলিশই হয়নি। যা ছবিটির অন্যতম দুর্বলতা, একটু মনোযোগ দিলেই এটি ঠিক করা যেত।

তবে ছবিটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এর দৃষ্টিনন্দন সিনেমাটোগ্রাফি এবং অ্যাকশন। যে কোন ধরনের থ্রিলার বা অ্যাকশন ঘরানার গল্পে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা থাকে যে, হিরো সবসময় সহজেই সব জয় করে ফেলে। তার সামনে চ্যালেঞ্জ যত কম থাকে, ততই হিরোর হিরোইজম কমতে থাকে। বাংলা ছবিতে বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণেই হোক বা অন্য কারণে হিরোকে কখনই বড় বড় চ্যালেঞ্জে ফেলা হয় না।

কিন্তু মাসুদ রানা ছবিটি এই ক্ষেত্রে আলাদা। এখানে প্রতিটি অ্যাকশনেই হিরো সর্বোচ্চ মার খায় এবং একদম শেষ মুহূর্তে গিয়েও বিপদে পড়ে যায়। যা ছবিটির গল্পকে বিশ্বাস করতে আরও সুবিধা হয়।

তবে কোন রকম কমিক রিলিফের নামে ভাড়ামি না করে টানা দুর্দান্ত সব অ্যাকশন দৃশ্য, ছবিটিকে একটি অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। ফাইটিং দৃশ্যে ক্যামেরার কেরামতি দর্শককে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়, তার মনে হয় সেও মারামারির জায়গায় আছে। যা বাংলা সিনেমার জন্য জটিল বিষয়গুলো ডিল করার একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

এছাড়া বারবার বিশ্বাসযোগ্য ফাইটিং দর্শককে নিয়ে এক রোমাঞ্চকর রোলার কোস্টারের অভিজ্ঞতার মধ্যে।

বাংলা বাণিজ্যিক ছবির মানদণ্ডে এরকম অ্যাকশন একটি ভালো উদ্যোগ। বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতা, এডিটিং জোড়াতালি ও রাইটিংকে আরো স্ট্রং করলে ছবিটি অন্য একটি মাত্রায় যেতে পারতো বলেই বোধ করি।

এছাড়াও এটি একটি ভালো উদ্যোগও বটে।


Leave a reply