Select Page

ভালো গল্পের মাঝারি উপস্থাপন ‘মাসুদ রানা’

ভালো গল্পের মাঝারি উপস্থাপন ‘মাসুদ রানা’

‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ছবির প্রতি দর্শকের বাড়তি আগ্রহ থাকে। সেদিক থেকে এ সিরিজের ছবির স্ট্যান্ডার্ডও তেমন হওয়া উচিত। সাদাকালো সময়ে সোহেল রানা পরিচালিত ‘মাসুদ রানা’ ছবিটি এখনো এ সিরিজের ক্লাসিক একটি কাজ হয়ে আছে। এরপর ডিজিটাল সময়েই এ সিরিজের ‘এমআরনাইন’ ছবিতে কাজ করেছিল এবিএম সুমন। তারপর নতুন ছবিতে একদম নতুন মুখ রাসেল রানা কাজ করল।

কাজী আনোয়ার হোসেনের জনপ্রিয় এ সিরিজের ‘ধ্বংস পাহাড়’ বই থেকে স্পাই থ্রিলারের গল্পে নতুন ‘মাসুদ রানা’ নির্মিত হয়েছে। দেশের প্রধান কিছু সমুদ্রবন্দর ধ্বংস করার মিশন নিয়ে শত্রুপক্ষের তৎপরতাকে রুখে দিতে রাসেল রানার মিশন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত টার্গেটে সফল হয় কিনা সেটাই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু।

ছবির পরিচালক সৈকত নাসির।
সৈকত নাসির যে কাজ দেখিয়েছেন তাতে এআই প্রযুক্তির কাজের ব্যবহার ছবির সিংহভাগ জুড়ে ছিল। তিনি তাঁর জায়গা থেকে বলেছেন টেকনোলজির সাথে খাপ খাওয়াতে হবে কিন্তু সেটা যদি চোখে লাগে তাহলে তা ধরে দেয়াও সচেতন দর্শকের কাজ। ছবির গল্পের মান অনুযায়ী যে ধরনের স্মার্ট প্রেজেন্টেশন দরকার ছিল সেটা হয়নি, হয়েছে মিডিয়াম মানের প্রেজেন্টেশন। তবে গল্পে একটা গতি ছিল, অ্যাকশনের উপস্থিতি বেশি থাকায় মনোযোগ হারায়নি।

মাসুদ রানা-র জন্য যে ধরনের স্মার্টনেস ও ফিটনেস দরকার সেটা রাসেল রানার আছে। তার পরিশ্রমের দিকটি স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে কিন্তু অভিনয়ের জায়গাটি স্ট্রং নয়। মাসুদ রানা চরিত্রের জন্য অভিনয়টাও মেজোর ফ্যাক্টর, তার এক্সপ্রেশন অনেক জায়গায় দুর্বল এমনকি ডায়লগ ডেলিভারিও। তার বিপরীতে থাকা দুই নায়িকার মধ্যে পূজা চেরী স্মার্টনেসে ভালোভাবেই এগিয়ে। তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় বাকি দুজনকে অনেকটাই ম্লান করে দেয়।

সৈয়দা তিথি মোটামুটি মানের পারফর্ম করেছে। নেগেটিভ রোলে অমিত হাসান ন্যাচারাল হলেও গাজী রাকায়েত ছিল দারুণভাবে হাস্যকর, তাকে এ ধরনের চরিত্রে মানায়নি। ভালো ব্যক্তিত্বের অভিনয় ছিল ফখরুল বাশার মাসুমের। ছবির অন্যান্য চরিত্রগুলোর মধ্যে বেশিরভাগেরই দুর্বল অভিনয় ছিল।

‘মাসুদ রানা’-র পরের পার্টের হিন্টসও দেয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে ছবির টিমের প্রতি আহবান থাকবে নতুন পার্টটি যেন স্মার্ট প্রেজেন্টেশনের হয়।

রেটিং: ৬.৫/১০


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply