Select Page

কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি : দর্শক আকর্ষণ বেশিক্ষণ ধরে রাখে এমনটা বলা যায় না

কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি : দর্শক আকর্ষণ বেশিক্ষণ ধরে রাখে এমনটা বলা যায় না

[নায়িকা মৌসুমী পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ মুক্তি পায় ২০০৩ সালের ২৬ নভেম্বর। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের এ সিনেমায় মৌসুমী ছাড়াও অভিনয় করেন ফেরদৌস আহমেদ, রাজ্জাক ও ববিতা। সিনেমা হলের পাশাপাশি একইদিন টেলিভিশন প্রিমিয়ার হয় ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’র। তখনকার একটি পত্রিকায় সিনেমাটি রিভিউ করেছিলেন নবীন হোসেন। লেখাটি বিএমডিবি জন্য তোলা রইলো। ব্যবহৃত শিরোনামটি বিএমডিবির দেয়া। ]

ব্যাপক আলোচিত, প্রশংসিত ছবি ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমা হলের আগেই প্রিমিয়ার হিসেবে দেখানো হয় বিটিভিতে ১৯৯৮ সালের ঈদের বিশেষ আয়োজনে। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যবস্থাপনায় ছবিটি দেশের প্রথম টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচার করে বিটিভি। এরপর সেই ইমপ্রেস টেলিফিল্মই পূর্ণদৈর্ঘ্য কোন চলচ্চিত্র সিনেমা হলের পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হিসেবে প্রচার করল চ্যানেল আই’র পর্দায়।

কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ নামের এ ছবিটি নায়িকা মৌসুমী পরিচালিত প্রথম ছবি। চ্যানেল আই’র বিশাল প্রচারণা, ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা আর পত্রপত্রিকার উৎসাহের কারণে ঈদের দিন বিকাল ৩টায় দর্শকরা চ্যানেল আই’র পর্দায় চোখ রেখেছিলেন আগ্রহভরে। কিন্তু সেই চোখ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়েছে, এমনটি বলা যাবে না। ছবিটি দর্শকদের প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে- এটা এখন একটি ‘বাস্তব সত্য’।

কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি আমাদের অতিপরিচিত ঘর-সংসারের গল্প যেখানে আছেন ভাই, ভাবী, বোন, ভাতিজা, চাকর-বাকর। একটি পরিবারের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা আর উত্থান-পতনের কাহিনী। কিন্তু চিত্রনাট্যের দুর্বলতা, উপস্থাপনায় বুদ্ধিদীপ্ততার অভাব আর একেবারেই দুর্বল সংলাপের এই গল্প দর্শকদের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারেনি। বরং ছবি শুরুর কিছুক্ষণ পর দর্শক এটাকে ‘গড়পরতা মানে’র একটি নাটক ভেবেছেন। সিনেমার যে আলাদা ভাষা আছে, তা ছিল অনুপস্থিত।

ছবিটির বেশ কিছু বিষয়কে দর্শকদের মেনে নিতে অসুবিধা হয়েছে। প্রথমত রাজ্জাক যে বয়সী চরিত্রে অভিনয় করেছেন-তা তার বয়স ও চেহারা উপযোগী ছিল না। তার বোন হিসেবে মৌসুমীর উপস্থিতিও তাই ‘জোরপূর্বক’ মনে হয়েছে, রাজ্জাক-ববিতা দম্পতির ৭/৮ বছরের সন্তান ব্যাপারটিও বেমানান। ছবির গল্পে যখন রাজ্জাক অসুস্থ হলেন তখন যে গতির প্রয়োজন ছিল, তা ঝিমিয়ে পড়ে মৌসুমীর অপ্রয়োজনীয় কিছু দৃশ্যে।

মৌসুমীদের একমাত্র ভাই কী কারণে মদ পান করছেন এবং তার চরিত্রের পরিণতি কী তাও দর্শক বুঝতে পারেননি। এই চরিত্রটি না থাকলে ছবির গল্পের কোন ক্ষতি হতো এমনও মনে হয়নি। মৌসুমী-ফেরদৌসের প্রেমের মাঝে সৃষ্ট দেয়ালও শক্ত ছিল না। বরং শক্ত ছিল ফেরদৌসের মাদকাসক্তি আর বিরহ। কেউ যখন ফেরদৌসকে বোঝাতে পারছে না; তখন তার মা মৌসুমীকে না দেখেই, না বুঝেই শুধু অনুমানের ভিত্তিতে হবু পুত্রবধূর পক্ষে চলে গেলেন… কেন?

রাজ্জাক ব্যাংককে চিকিৎসায় যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিলেন, আমি এসে ঠিক করে দেবো সব। তারও ধারাবাহিকতা থাকেনি। বরং রাজ্জাক বিমানবন্দরে এসে সবাইকে একসঙ্গেই দেখেছেন। যা আর ১০টি গতানুগতিক ছবিরই ছায়া।

সবচেয়ে বড় কথা ছবির শেষ দৃশ্যে ফেরদৌসের অ্যাকশন দৃশ্যগুলো আর গুলি খেয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পরের দৃশ্য এতটাই বাস্তবতা বিবর্জিত যে এটাকে সাধারণ সিনেমার গল্প ভাবতেও কষ্ট হয়েছে। গুলি বের করে ডাক্তার যখন বললেন- আমার আর কিছু করার নেই, এখন আল্লাহকে ডাকো। তারপরও দেখা গেল মৌসুমীর দু’তিন মিনিট সংলাপের পরই ফেরদৌস সুস্থ হয়ে গেলেন এবং এতটাই সুস্থ-স্বাভাবিক সংলাপ বলতে থাকলেন যে আগের দৃশ্যগুলোকে কাটপিস বলে মনে হচ্ছিল। ফেরদৌসের জ্ঞান ফেরা এবং সংলাপ শেষেই বিমানবন্দরে দেখা গেল তার বীরদর্পে পদচারণা। একজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির এমন স্বাভাবিকতা সত্যিই বিস্ময়কর।

তবে একটি বিষয় অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে তা হল-পরিচ্ছন্ন, সুস্থ বিনোদন একটি ছবি নির্মাণের উদ্যোগ আর প্রয়াস। এ জন্য ধন্যবাদ ইমপ্রেস টেলিফিল্মকে। আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের খুব নাজুক সময়ে এমন একটি উদ্যোগকে স্বাগত জানাতেই হয়। সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগের জন্য যে আরও সাবধানতা আর মনোযোগ প্রয়োজন সেটাও উল্লেখ করা দরকার।


Leave a reply

সাম্প্রতিক খবরাখবর