বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বয়ান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ফারুকী
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাবেক ইন্টেরিম সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসর, রাজনৈতিক ইতিহাস এবং শিল্প-সাহিত্যে “নির্বাচিত বিষয়চর্চা” নিয়ে দীর্ঘ এক ফেসবুক মন্তব্য করেছেন।
সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায় কেন চলচ্চিত্র, উপন্যাস বা মূলধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় জায়গা পায় না।
ফারুকী লেখেন, “ষোলো ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানী কেন ছিলেন না—এই সহজ এবং গভীর প্রশ্নটা নিয়ে কোনো সিনেমা বা উপন্যাস হইছে বলে শুনছেন?”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ বিষয়ে খোলামেলা স্মৃতিচারণ করলেও সেটিকে ঘিরে বড় কোনো সাংস্কৃতিক কাজ তৈরি হয়নি।
স্ট্যাটাসে তিনি ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের নানা “অবহেলিত” অধ্যায় সামনে আনেন। এর মধ্যে রয়েছে মওলানা ভাসানী-এর ভূমিকা, রক্ষীবাহিনীর নির্যাতন, মেজর এম এ জলিল-কে ঘিরে চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুপস্থিতি, বাহাত্তর-পরবর্তী নৈরাজ্য এবং জমিদারি শোষণের ইতিহাস।
তিনি প্রশ্ন করেন, “যে শেরে বাংলা আমার এবং আপনার পূর্বপুরুষদের জমিদারী শোষণের হাত থেকে বাঁচিয়েছে তাকে আমাদের শিল্প-সাহিত্যের কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে দেখেছেন?”
এছাড়া গুম ও রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়েও তিনি মূলধারার ফিকশন নির্মাণ না হওয়ার সমালোচনা করেন। ইলিয়াস আলীসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ডকুমেন্টারি হলেও “ন্যারেটিভ ফিকশন” তৈরি হয়নি।
ফারুকীর মতে, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে “কোনটা প্রগতিশীল আর কোনটা প্রতিক্রিয়াশীল”—এমন একটি রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করা হয়েছে। তার দাবি, এই বিভাজনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধারাকে “হাই কালচার” এবং অন্য ধারাগুলোকে “লো কালচার” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
তিনি লেখেন, “আওয়ামী লীগ হাই কালচার, বিএনপি লো কালচার—এই ধারণা আমাদের মনের গভীরে বসানো হয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে জিয়াউর রহমান এবং বিএনপিকে ঘিরে সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, “নতুন কুঁড়ি”-র মতো বড় সাংস্কৃতিক উদ্যোগের পরও জিয়াউর রহমান বা বিএনপি “কালচারালি কুল” হয়ে উঠতে পারেনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি তার উত্তরসূরির জন্য একটি বিস্তারিত “নোট টু সাকসেসর” রেখে গেছেন, যেখানে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইকোসিস্টেমে পরিবর্তনের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যতে সেটি প্রকাশ করার কথাও জানান তিনি।






