মৌসুমী নয়, অন্য নায়িকার অভিযোগে আটকে গেল ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’
হাসান জাহাঙ্গীর পরিচালিত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ মুক্তির কথা ছিল ১৫ মে। এর দিন কয়েক আগে সিনেমাটির সার্টিফিকেশন সাময়িকভাবে স্থগিত (সাসপেন্ড) করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের কোনো প্রেক্ষাগৃহে অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে প্রদর্শন করা যাবে না।
সিনেমাটি নিয়ে নায়িকা মৌসুমীর আপত্তি বেশি দেখা গেলেও অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ শীর্ষক পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্রের বিষয়ে মডেল ও অভিনেত্রী জেবা জান্নাত অভিযোগ উত্থাপন করেছেন যে তিনি একটি একক নাটকে অভিনয়ের উদ্দেশ্যে মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হন এবং কয়েকটি দৃশ্যে অভিনয়ে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি লক্ষ করেন যে তাঁর স্থিরচিত্র–সংবলিত ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ চলচ্চিত্রের পোস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে নাটকের উদ্দেশ্যে ধারণকৃত দৃশ্যসমূহ সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে চলচ্চিত্রে সংযোজনপূর্বক নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে এই চলচ্চিত্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রী মৌসুমী ও তাঁর পক্ষে স্বামী ওমর সানী বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রযোজক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে বক্তব্য প্রদান করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার উদ্ভব হয়েছে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন–২০২৩–এর ধারা ৮ অনুযায়ী, ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ শীর্ষক পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্রের সার্টিফিকেশন সনদ (এলএফ-১৯/২০২৬, তারিখ: ১৬-০৩-২০২৬) সাময়িকভাবে স্থগিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে ছবিটি ঘিরে বিতর্ক চলছিল। ছবিটি নিয়ে কদিন আগেই অভিযোগ করেছিলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। তিনি জানান, এটি কোনো সিনেমা নয়, নাটকের কথা বলেই যুক্তরাষ্ট্রে এটির শুটিং হয়েছিল।
মৌসুমীর পর ছবিটি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী জেবা জান্নাত। সিনেমার পোস্টারে চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে জেবা জান্নাতকেও দেখা যায়। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কোনো কিছুই জানেন না বলে জানান এ অভিনেত্রী। এমনকি ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে কোনো সিনেমা কিংবা নাটকে তিনি অভিনয়ই করেননি বলেও জানান।
পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সদুত্তর না পেয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডসহ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠনে লিখিত অভিযোগ করেছেন জেবা জান্নাত। এর সঙ্গে টেলিভিশন অভিনেতার সংগঠন অ্যাক্টরস ইকুইটিতেও লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে অভিনেতা সিয়াম মৃধাও ফেসবুকে অভিযোগ করেন। জানান, একটি সিরিয়ালে কাজের নাম করেই সিনেমার অনেক অংশ তৈরি করা হয়েছে।
আজ বুধবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন জেবা জান্নাত। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছবিটির মুক্তি স্থগিত করা হয়।
এদিকে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর সার্টিফিকেশন সাময়িক স্থগিতের খবর প্রকাশের পর মুখ খুলেছেন সিনেমাটির নির্মাতা ও অভিনেতা হাসান জাহাঙ্গীর।

বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক লাইভে এসে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এবং দাবি করেন, তার সিনেমা “বাতিল হয়নি”, বরং “সাময়িকভাবে স্থগিত” করা হয়েছে।
লাইভে হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, “৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার মানুষের কথা চিন্তা করে, তরুণ সমাজ ও প্রবাসীদের কথা ভেবে সুন্দর একটি গল্পের সিনেমা ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নির্মাণ করেছি। ১৫ মে সিনেমাটি মুক্তির প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এটি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু মানুষ বিষয়টিকে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন তিনি “বড় কোনো অপরাধ” করে ফেলেছেন। তার ভাষায়, “আমার সিনেমা কিন্তু সেন্সর বোর্ড বাতিল করেনি। সাময়িক স্থগিত করেছে। কেউ ভুল তথ্য দেবেন না। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে গলা টিপে মারবেন না।”
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গ টেনে হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, প্রায় ৩৮ বছর ধরে তিনি এই ইন্ডাস্ট্রিতে “ক্লিন ইমেজ” নিয়ে কাজ করে আসছেন। দেশের অনেক জনপ্রিয় শিল্পী তার সঙ্গে কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
লাইভে তিনি আরও জানান, সিনেমাটি মুক্তির জন্য এরইমধ্যে ৫০টির বেশি প্রেক্ষাগৃহ বুকিং দেওয়া হয়েছিল এবং হল মালিকদের পক্ষ থেকেও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল। এমন অবস্থায় মুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তকে “হতাশাজনক” বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের কথাও জানান এই নির্মাতা। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল কাগজ হাতে পাইনি। কাগজ পেলেই আমি হাইকোর্টে যাব। আইনের প্রতি আমার আস্থা আছে।”
লাইভের শেষ দিকে হাসান জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, চলচ্চিত্রকে ধ্বংস করার জন্য একটি “বিশেষ মহল” কাজ করছে। দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের তার পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা পাশে থাকলে আমি সুবিচার পাবো।”





