Select Page

স্মরণীয় অভিনেতা সৈয়দ আহসান আলী সিডনী

স্মরণীয় অভিনেতা সৈয়দ আহসান আলী সিডনী

এ প্রজন্ম সৈয়দ আহসান আলী সিডনীকে চেনে কি? নামটাও জানে কি? উত্তরটা না-ই হবার কথা। সিডনী আমাদের নাটক ও চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা। তাঁর সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার অনেকের জন্যই আদর্শ।

তিনি দেখতে যেমন অসাধারণ ব্যক্তিত্ববান ছিলেন অভিনয়ও তাই। সৌন্দর্য আর অভিনয়ের কম্বিনেশন একসাথে খুব কম ঘটে তাঁর ক্ষেত্রে ঘটেছিল। তাঁর জন্ম ১৯৩৮ সালের ৩ অক্টোবর, ঢাকায়। পড়াশোনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

তিনি কর্মজীবনে দেশ ও দেশের বাইরে কাজ করেছেন। তাঁর ছেলে জিতু আহসান-ও বাংলা নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা এবং জেনেটিক ফর্মে তার মধ্যেও ভালো অভিনয়ের গুণ ছিল।

মঞ্চের পেশাদার অভিনেতা হবার কারণে অভিনয়টা তাঁর রক্তে মিশে গিয়েছিল। তিনি অভিনয়ই করতেন ব্যক্তিত্ববান। নাটকে তিনি নিজেই নিজের তুলনা ছিলেন। এত অনবদ্য সব কাজ ও অভিনয় তিনি দিয়ে গেছেন যা অনেকের ভাগ্যে জোটেনি। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক – জোনাকি জ্বলে, সাত আসমানের সিঁড়ি, নয়ন সমুখে তুমি নাই, একটি সেতুর গল্প, পার্ল, বাড়ি ভাড়া, মানচিত্র, অপেক্ষার রেলগাড়ি, চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙ্গেছে, ভালোবাসি ঘাস, গাইড, উত্তরাধিকার, একদা এক দুঃস্বপ্নে, ইতি আমার বোন, অভিযোগ, শেষের কবিতা, তবুও গোলাপের গন্ধ, নিশীথ তৃষ্ণায়, সাতজন যাত্রী, শেষ মানুষের ঠিকানা, শুকতারা, চাঁদের ঘরে বাসবাস, হাজার বছর পরে, আমি তুমি সে।

ছেলে জিতু আহসানের সঙ্গে সৈয়দ আহসান আলী সিডনী

‘সাত আসমানের সিঁড়ি, জোনাকি জ্বলে’ তাঁর বিখ্যাত নাটক। নাটকে তাঁর বৈচিত্র্য ছিল অনেক। মুক্তিযুদ্ধের নাটক থেকে শুরু করে ব্যক্তি ও সমাজের নানা বাস্তবতার ওপর তিনি নাটক করেছেন।

চলচ্চিত্রেও নিজের আলোয় আলোকিত ছিলেন। প্রথম ছবিতেই ভালো অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত ছিলেন। উদয়ন চৌধুরীর পরিচালনায় কবরীর বিপরীতে প্রথম ছবি ‘চোরাবালি’তে প্রশংসিত হন।  তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবি – সূর্যকন্যা, দহন, সূর্য উঠার আগে, মায়ামৃগ, পায়ের চলার পথ,  রূপালী সৈকতে, স্বামী, আয়না, মেঘ বিজলী বাদল, সঙ্গিনী, ফুলশয্যা।

‘সূর্যকন্যা’ ছবিতে জয়শ্রী কবিরের বিপরীতে ছিলেন। এ ছবিতে ক্লাসিক পপুলার গান ‘চেনা চেনা লাগে তবু অচেনা’-তে তার অভিনয় অসাধারণ ছিল। ‘দহন’ ছবিতে ছিলেন আরেক কিংবদন্তি অভিনেত্রী ডলি আনোয়ারের বিপরীতে। বাস্তবতায় পড়ে প্রেমের সম্পর্ককে বিয়ে পর্যন্ত রূপ দিতে পারেন না তিনি। এ ছবিতেও অসাধারণ ছিলেন। ‘পায়ে চলার পথ’ ছবিতে তাকে সবচেয়ে ইউনিক লেগেছে। এ ছবিতে তিনি গেটআপই নিয়েছিলেন দারুণ। কিছুটা খলনায়কী চরিত্র এবং অ্যাটিচিউড ছিল দেখার মতো। ‘মেঘ বিজলী বাদল’ ছবিতে রোজী আফসারীর বিপরীতে।

তিনি ২০০২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

‘সাত আসমানের সিঁড়ি’ নাটকের হুমায়ূন ফরীদির সঙ্গে সিডনী

সৈয়দ আহসান আলী সিডনী একজন কিংবদন্তি অভিনেতা। এ প্রজন্ম নিজের সময় ছাড়া অতীতের সমৃদ্ধ তারকাদের খুব একটা জানার আগ্রহ দেখায় না অথচ সিডনীর মতো অভিনেতাদের জানতে হয় কারণ তাঁরাই অভিনয়শিল্পটিকে সমৃদ্ধ করে দিয়ে গেছেন। স্মরণীয় থাকুক চিরদিন সেই অভিনেতা।


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply

সাম্প্রতিক খবরাখবর