‘হৃদয়ের কথা’র ২০ বছরে কী কথা
১৮ আগস্ট ‘হৃদয়ের কথা’ ছবির মুক্তির তারিখ। ২০০৬ সালের এ দিনে মুক্তি পেয়েছিল।

নব্বই দশকের শুরুতে ‘চাঁদনী’ ছবির মাধ্যমে তখনকার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে আলোড়ন উঠেছিল সেটি আশির দশকের ছবির ধারা থেকে বাণিজ্যিক ছবিতে পরিবর্তন এনেছিল। ২০০০ পরবর্তী ছবিতে যখন অশ্লীলতার থাবা মারাত্মকভাবে দেখা গিয়েছিল তখনই এক পশলা বৃষ্টির মতো সুনির্মিত রোমান্টিক ছবি হিসেবে ‘হৃদয়ের কথা’-র আবির্ভাব ঘটেছিল এস এ হক অলিকের পরিচালনায়। এ ছবি সেই সময়ে ভালো ছবি নির্মাণের যে চ্যালেঞ্জ সেটিকে শতভাগ প্রতিষ্ঠিত করেছিল। আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোমান্টিক ছবির যে ভাষা সেটা ছিল এ ছবিতে।
‘হৃদয়ের কথা’ এককথায় হ্যাভোক পরিবর্তনের ছবি ছিল। গল্প, গান, নায়ক-নায়িকার রসায়ন, পার্শ্ব চরিত্রের হার্ট টাচিং অভিনয় সবকিছুর ব্যালেন্সড প্রেজেন্টেশন ছিল। হাবিব নামের তখনকার নতুন ধরনের মিউজিক উপহার দেয়া একজন সিঙ্গারকে তুমুল জনপ্রিয় গানে এ ছবিতে পাওয়াটা ছিল স্পেশাল কিছু। হাটে, মাঠে, গঞ্জে, শহরে কোথায় বাজেনি ‘ভালোবাসব বাসব রে বন্ধু’ গানটি! বাংলাদেশের এনটায়ার বাণিজ্যিক ছবির ইতিহাসেই এ গান হিউজ পপুলারিটি পাওয়া গান ছিল। বিলবোর্ডের প্রচারণা ব্যাপকভাবে হয়েছিল, অনেক বিলবোর্ড দেখা গিয়েছিল ছবির। রিয়াজ-পূর্ণিমার তখনকার জনপ্রিয়তা অনুযায়ী অসাধারণ রসায়নের পাশাপাশি মৌসুমীকে রাখা হয়েছিল ইমোশনাল চরিত্রে। রোমান্স আর ইমোশনের যে ব্যালেন্স বাণিজ্যিক ছবিতে দরকার সেটা পুরোপুরি ছিল।

এস এ হক অলিক রোমান্টিক দৃশ্য তৈরিতে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন। ‘ভালোবাসব বাসব রে বন্ধু’ গানে নৌকায় রিয়াজ-পূর্ণিমার দৃশ্যটি ছিল স্নিগ্ধতায় ভরা। এমনকি বেদনা প্রকাশের ক্ষেত্রেও যে রোমান্টিকতা আনা যায় তা দেখানো হয়েছে যখন রিয়াজের উপর রাগ করে পূর্ণিমা কথা বলা বন্ধ করেছে রিয়াজ তখন পূর্ণিমার বাড়ির সামনে বৃষ্টিতে ভায়োলিন বাজায়। দৃশ্যটি অসাধারণের চেয়েও বেশি কিছু ছিল। দুজনের সাইলেন্ট অ্যাকটিংয়ে যে রাজ্যের কথা লুকিয়ে ছিল সেটাকে দেখানোর স্টাইলটা ছিল দারুণ আধুনিক। ‘যায় দিন যায় একাকী’ গানটিও স্যাড সং হিসেবে আধুনিক প্রেজেন্টেশনের ছিল।
‘হৃদয়ের কথা’ ঠিক ঐ জায়গাটিতেই বিশেষত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে যেখানে রোমান্টিক ছবি দেশের চলচ্চিত্রে অনেক থাকার পরেও নাম শুনেই ছবিটির জন্য আলাদা একটা ভালো লাগা দর্শকের মনে তৈরি হয়ে যায়। এটাই আইকনিক করে রাখবে ছবিটিকে।






