Select Page

বাইবর্ন অ্যাকট্রেস শাবনূর ও কয়েকটি জিজ্ঞাসা

বাইবর্ন অ্যাকট্রেস শাবনূর ও কয়েকটি জিজ্ঞাসা

শাবনূর বাইবর্ন অ্যাকট্রেস।

হ্যাঁ, পরিচালক বা অন্যান্য কলাকুশলীদের অবদান একজন অভিনেত্রীকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে থাকে পাশাপাশি প্রতিভা থাকলে আরো সহজ হয়ে যায়। শাবনূরের বাইবর্ন অ্যাকট্রেস হয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে আসার যে বিষয়টি সেটি একটি প্লাসপয়েন্ট তার জন্য পাশাপাশি সেই প্রতিভাকে নার্চার করার জন্য পরিচালক, কলাকুশলীদের ভূমিকাও ছিল যেটি পর্দার বাইরের বিষয়। বাইবর্নের পরেও শাবনূরকে নিয়ে কিছু জিজ্ঞাসা আছে যেগুলো লজিক্যালি আলোচনায় আসার মতো।

শাবনূর যদি শিশুশিল্পী হত তাহলে কি হত?

তাহলে তার আরো সাফল্য থাকত। অনেক নায়িকা বা অভিনেত্রীই শিশুশিল্পী দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিল এবং সফল হয়েছিল। সেটা বলিউড, টলিউড, ঢালিউড সবখানেই ছিল। শাবনূরের ক্যারিয়ার শিশুশিল্পী দিয়ে শুরু হয়নি, যদি হত তাহলে সেখানেও তার সফল ক্যারিয়ার থাকত এবং বড়বেলার নায়িকার ক্যারিয়ারের জন্য তা আরো বেশি সহায়ক থাকত। যাই হোক সেটা না থাকাটা সমস্যা না, থাকলে তার ক্যারিয়ারের আরো একটি দিক থাকত এজন্যই বলা।

শাবনূর কখনো নাটকে কাজ করেনি। এটিকে অনেকেই তাঁর সচেতনতা মনে করে, করতেই পারে সেটা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। আবার যারা তার ডাইহার্ড ফ্যান তারা অনেকে বলে নাটকে তারাই কাজ করে যারা চলচ্চিত্রে ভালো জায়গা করতে পারে না কিংবা দুইনৌকায় পা দিয়ে শেষ পর্যন্ত একটাও ঠিকমতো হয় না। কিন্তু একজন বাইবর্ন অ্যাকট্রেস যদি নাটকে কাজ করত তবে নাটকে হয়তো আরো সমৃদ্ধ কাজ হতে পারত। দিতি, মৌসুমী, চম্পা, পূর্ণিমাদের নাটকে কাজ আছে অনেক, পপিরও কিছু আছে এমনকি দ্বিতীয় সারির নায়িকা যেমন সোনিয়া, কাজল, কাঞ্চি তাদেরও নাটকে কাজ ছিল কিছু। নাটককে ছোট করে দেখার অবকাশ কি আছে? কোনোভাবেই না, নাটকের ইন্ডাস্ট্রি আশি/নব্বই এমনকি ২০০০ পরবর্তী প্রথম দশকেও সমৃদ্ধ ছিল। যারা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটকেও কাজ করেছিল তাদের ক্যারিয়ারে বৈচিত্র্য এসেছিল। সুবর্ণা মুস্তাফা, জয়া আহসান, মৌসুমী এ তিনজন এক্ষেত্রে বড় উদাহরণ। জয়া আহসানের ক্ষেত্রে আরো স্পেশাল কারণ নাটকে সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার থাকার পর চলচ্চিত্রে দেশ ও দেশের বাইরেও ঈর্ষণীয়ভাবে সফল। তাদের ক্ষেত্রে অভিনয়ের একাধিক প্ল্যাটফর্মে কাজের যে অভিজ্ঞতা সেটা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটকের মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। নাটকে তাদের সফল জার্নিও রয়েছে ঠিক সেভাবে শাবনূরেরও সফল জার্নি তো বটেই বরং তাঁর অভিনয়ের গুণের জন্য সে জার্নি আরো স্মরণীয় হতে পারত। এসূত্রে বিজ্ঞাপনে তাঁর কাজের বিষয়টি বলা যেতে পারে। বিজ্ঞাপনে তাঁর ‘তিব্বত বিউটি কেয়ার সোপ, হেনোলাক্স, বায়তুল জুয়েলার্স’-এর মতো দর্শকপ্রিয় বিজ্ঞাপনগুলো শাবনূরের জনপ্রিয়তায় সহায়ক ভূমিকা রেখেছিল নব্বই ও তার পরবর্তী দশকে। এভাবে আরো একাধিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করলে তা শাবনূরের জন্য সেগুলো নতুন কোনো সাফল্য নিয়ে আসত। ‘নিরন্তর’ ছবির কথা যদি বলি আন্ডারটোনের অভিনয় সেখানে অসাধারণভাবে ছিল যেটা নাটকে বেশি ব্যবহৃত হয়, শাবনূর নাটকে কাজ করলে সেটাও থাকত। শুধু চলচ্চিত্রেই ফোকাস করাটা অবশ্যই তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় কিন্তু তাঁর মতো বাইবর্ন অ্যাকট্রেসের একাধিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করাটা নিশ্চয়ই তাঁর ক্যারিয়ারে আরো কিছু সংযোজন ঘটাত এর জন্যই বলা।

বাইবর্ন অ্যাকট্রেস হবার কারণে শাবনূর তাঁর ছবির নায়কদের থেকে কিছু ক্ষেত্রে বেশি আলোচিত হয়েছে। এটাও তাকে বিশিষ্ট করে তুলেছে। আবার যে-কোনো নায়কের ক্ষেত্রেই শাবনূর সফল হয়েছে তা কিন্তু নয়। যেমন শাবনূরের নায়ক হিসেবে সাব্বির, শামস-রা দুর্বল ছিল তাঁর তুলনায়। সালমান শাহ ও রিয়াজের সাথে শাবনূরের জুটি সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে। কেন হয়েছে? তার মানে এখানে কোনো একটা বিশেষত্ব আছে। সালমান শাহ-রটা প্রাথমিক জুটি হিসেবে এবং শাবনূরের ক্যারিয়ার বিল্ডআপের জন্য বেশি ভূমিকা রাখায় এ জুটি প্রথমেই থাকবে। পরিপূরক হিসেবে সালমান শাহ তাঁর জন্য ছিল পারফেক্ট তাই শাবনূর তাঁর সাথে আলোচিত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এর বাইরে সালমানের মৃত্যু পরবর্তী শূন্যতায় রিয়াজের সাথে নতুন পারফেকশন পেয়ে যায় দর্শক এবং এক্ষেত্রে সালমানের শূন্যতার জন্যই রিয়াজকে দর্শক একটা সহায়ক জুটি হিসেবে গ্রহণ করে এবং সেটিও আলোচিত হয়। এ দুজনের বাইরে শাকিব খানের সাথে শাবনূরের জুটি দর্শক গ্রহণ করেছিল কিন্তু সেটা রিয়াজের মতো ততটা আলোচিত ছিল না। তারা বাদে শাকিল খান, আমিন খান, মান্না, ওমর সানী-দের সাথে শাবনূরের জুটি হলেও আগের গুলোর মতো আলোচিত হয়নি। তাদের সাথে ছবি সফল হয়েছে ঠিক কিন্তু ঐ জুটিগুলোর মতো একটা শূন্যতা থেকে গেছে পরবর্তী জুটিগুলোতে তাই ব্যাটেবলে পুরোপুরি আলোচিত হয়নি।

বলা হয় ‘exceptional is not example’ কারণ ভালো তো সবসময়ই ভালো আবার ভালোর কোনো শেষও নেই। শাবনূর বাইবর্ন অ্যাকটিং কোয়ালিটি নিয়ে অভিনয়ে আসার কারণে তাঁকে উদাহরণ মানাটা অনেকের জন্যই সহজ হয়েছে কারণ সে বাইবর্ন। যে অভিনয় করার শক্তি নিয়েই জন্মেছে তার প্রশংসা না করলেও কিছু যাবে আসবে না কারণ সে বাইবর্ন। বরং শাবনূর বাদে যারা অভিনয় করতে করতে বা কাজ শিখতে শিখতে একটা পর্যায়ে সফল অভিনেত্রী হয়েছে তাদের কথা বলাও কর্তব্য। শাবনূর তো ভালোই কিন্তু যে বা যারা একটু একটু করে চেষ্টা করতে করতে ভালো হয়েছে তাদের কথা বলা দরকার। ঠিক এক্ষেত্রেই তার ডাইহার্ড ফ্যানবেজ একটা সংকট তৈরি করেছে। তারা শাবনূর ব্যতীত অন্যান্য নায়িকাদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে চায় না কিংবা সে মানসিকতাকে ধারণ করে না। শাবনূর ব্যতীত তার সমসাময়িক বা তার পূর্ববর্তী অনেকের সাফল্যকেও তারা সঠিকভাবে মানতে চায় না, অন্যদের কথা তারা বলতেও চায় না কিংবা অবস্থাদৃষ্টে তাদেরকে ছোট করে শাবনূরকে বড় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কিন্তু একজনকে বড় করার জন্য বাকিদের ছোট করে দেখার মাধ্যমে যাকে বড় করা হচ্ছে তাঁকে কি আদৌ সম্মানটা সঠিকভাবে দেয়া হচ্ছে? এটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান তাই জিজ্ঞাসা রাখা। শাবনূরের কাজ দিয়ে শাবনূরকে মূল্যায়ন করা উচিত এবং বাকিদের কাজ দিয়ে তাদেরকে মূল্যায়ন করা উচিত। তাই নয় কি?

শাবনূরের ক্যারিয়ারের শেষটা কিন্তু স্মরণীয় হয়নি। যে এত প্রতিভা নিয়ে এসেছিল তার শেষটা আরো স্মরণীয় হওয়া উচিত ছিল। তার ফ্যানবেজের অনেকে শাবানার থেকেও তাঁকে এগিয়ে রাখতে চায় কিন্


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply