Select Page

মায়ের চরিত্রে নাসিমা খান

মায়ের চরিত্রে নাসিমা খান

মায়ের চরিত্রে অভিনেত্রী নাসিমা খান বেশকিছু ছবিতে অভিনয় করেছেন। ছবিগুলোতে তার চরিত্রের গুরুত্ব ছিল অন্যতম প্রধান হিসেবে। মা হিসেবে তার চরিত্রে কোমলতা, কঠেরতা সবই ছিল গল্পের প্রয়োজনে।

‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’ ছবির কথা সবার আগে বলতে হয়। এ ছবিতে তিনি ডাবল রোলে অভিনয় করেছেন। রাজ্জাকের নায়িকা ও মা দুই চরিত্রেই ছিলেন। দুই চরিত্রে তার অভিনয়ের দক্ষতা খুব সূক্ষ্মভাবেই ফুটে উঠেছে। নায়িকা হিসেবে যেমন সৌন্দর্যে ভরা তেমনি মায়ের চরিত্রে তার গেটাপ ছিল অসাধারণ। জাত অভিনেত্রী বলেই সম্ভব।

‘আম্মা’ ছবির কথা বলতে হয়। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের পরিচালনায় এ ছবিতে নাসিমা খান কেন্দ্রীয় চরিত্রে ছিলেন। তাঁকে ঘিরেই ছবির গল্প এগিয়েছে। মায়ের কাছ থেকে সন্তান আলাদা হয়ে যাওয়া তারপর নাটকীয়ভাবে ফিরে আসা ছিল ছবির গল্প। ইলিয়াস কাঞ্চন ও মান্নার মায়ের চরিত্রে নাসিমা খান পুরো ছবিতে মমতাময়ী মা।

‘সুন্দরী বধূ’ ছবির কথা না বললেই নয়। আমজাদ হোসেনের এ ছবিতে নাসিমা খান পজেটিভ ও নেগেটিভ দুই চরিত্রেই ছিলেন। রিয়াজ মা নাসিমা খানকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে কিন্তু সেটাই তার ভুল হয়। নাসিমা খান ছোট ছেলে সমু চৌধুরী ও সাদেক বাচ্চুর চক্রান্তে পড়ে সম্পত্তির জন্য রিয়াজকে বিষ খাওয়ায়। শাবনূর সব জানতে পারে কিন্তু রিয়াজ বিশ্বাস করতে চায় না যে তার মা বিষ দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত রিয়াজের বিশ্বাস মিথ্যা প্রমাণিত হয়। রিয়াজ সব সম্পত্তি মাকে দিতে চাইলে মা দলিল ছিঁড়ে ফেলে বলেন-‘আমি তোকে চাই আর কিছু চাই না।’ নিজের ভুল বুঝতে পেরে আবার মমতাময়ী মায়ের রূপে ফিরে আসেন নাসিমা খান। এ ছবিতে ‘মাগো মা ওগো মা তোমার নেই যে তুলনা’ গানটি অসাধারণ। নাসিমা খান গানের প্রাণ ছিলেন।

‘লজ্জা’ ছবিতে কঠোর-কোমল দুই ভূমিকাতেই নাসিমা খান অসাধারণ এক মা। ওমর সানী ও রাজিব তার ছেলে। সানী মৌসুমীকে ভালোবাসে কিন্তু রাজিবও তাকে পছন্দ করে আর বিয়ে করতে চায়। মৌসুমীর সাথে বিয়ে হচ্ছে না জেনে রাজিব চক্রান্ত করে নিজের ভাইকেই জেলে পাঠায় এবং মৌসুমীকে জোর করে পেতে চায়। শেষ পর্যন্ত নাসিমা খান গুলি করে মেরে ফেলে বড় ছেলে রাজিবকে। রাজিবকে মারার পর নাসিমা খানের পাথরের মতো নির্বাক হয়ে যাওয়ার অভিনয় ছিল অনবদ্য।

‘ক্ষুধা’ ছবিতেও নাসিমা খান মায়ের ভূমিকায় অসাধারণ ছিলেন। পুলিশ ইন্সপেক্টর নাসিমা খানের সংসারে দুই মেয়ে মৌসুমী ও অঞ্জু ঘোষ। মেয়েরা হারিয়ে যায়, স্বামী বুলবুল আহমেদের সাথে সম্পর্কেরর টানাপোড়েন ঘটে। ছবির গল্প সাদামাটা হলেও নাসিমা খান নিজের চরিত্রে দারুণ ছিলেন। একইভাবে ‘কথা দাও, নতিজা’ ছবিতেও উল্লেখযোগ্য মায়ের চরিত্রে।

‘দুই দুয়ারী’ ছবিতে মায়ের চরিত্রে সবচেয়ে ব্যতিক্রম ছিলেন। হুমায়ূন আহমেদের ছবিতে তিনি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এক মায়ের চরিত্রে ছিলেন যিনি দায়িত্বশীল, মমতাময়ী।

নাসিমা খান পাকিন্তান আমল থেকেই অভিনয়জগতে ছিলেন। নায়িকা হয়ে যেমন সফল ছিলেন পরবর্তীতে মায়ের চরিত্রেও অসাধারণ। সেগুলো তুলে ধরতেই এ আয়োজন। নাসিমা খান নামটি আমাদের চলচ্চিত্রে স্মরণীয় হয়ে থাকুক।


About The Author

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র গত শতকে যেভাবে সমৃদ্ধ ছিল সেই সমৃদ্ধির দিকে আবারও যেতে প্রতিদিনই স্বপ্ন দেখি। সেকালের সিনেমা থেকে গ্রহণ বর্জন করে আগামী দিনের চলচ্চিত্রের প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক। আমি প্রথমত একজন চলচ্চিত্র দর্শক তারপর সমালোচক হিশেবে প্রতিষ্ঠিত হবার স্বপ্ন দেখি। দেশের সিনেমার সোনালি দিনের উৎকর্ষ জানাতে গবেষণামূলক কাজ করে আগামী প্রজন্মকে দেশের সিনেমাপ্রেমী করার সাধনা করে যেতে চাই।

Leave a reply