Select Page

হ্যাপিলি ম্যারিড: ফ্যান্টাসি এবং রিয়্যালিটি!

হ্যাপিলি ম্যারিড: ফ্যান্টাসি এবং রিয়্যালিটি!

বিয়ে নিয়ে আমাদের জেনারেশনের ফ্যান্টাসির যেন শেষ নেই। কল্পনার জগতে পারফেক্ট ওয়েডিং প্ল্যান করা থেকে শুরু করে বিয়ের পরের জীবন নিয়ে নানা রকম স্বপ্ন বুনতে ভালোবাসি আমরা। তবে বাস্তব জীবনে স্বামী-স্ত্রীর জেনারেশনাল গ্যাপের মাঝে এমন পারফেক্ট ওয়েডিং কিংবা পারফেক্ট ম্যারেজ কি আদৌ সম্ভব? সেই গল্পটাই বলেছে জাহিদ প্রীতম পরিচালিত এবং আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল অভিনীত ওয়েবফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’।

গল্পের মিলেনিয়াল আনিস অনেকটাই ওল্ডস্কুল ধাঁচের মানুষ। সরকারি চাকরি করে, ভাই-বোনদের সঙ্গে থাকে, মায়ের রেখে যাওয়া বাগান দেখাশোনা করে আর মায়ের রেসিপি বুক দেখে রান্নাবান্নার মাধ্যমে নিজের শখ পূরণ করে। এসবের মধ্যেই কেটে যায় তার দিন। বিয়ে নিয়ে আলাদা করে ভাবার মতো সময় কিংবা আগ্রহ, কোনোটাই যেন তার নেই। অন্যদিকে, অনামিকা জেন-জি জেনারেশনের মেয়ে। বেশ চটপটে স্বভাবের অনামিকা নাচতে পছন্দ করে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকটিভ থাকতে ভালোবাসে। পাশাপাশি নিজের বিয়ে নিয়েও তার রয়েছে এক ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড, যেখানে সবকিছুই হওয়া চাই মনের মতো। এমনই দুই ভিন্ন প্রজন্মের, দুই ভিন্ন মানসিকতার মানুষের যখন বিয়ে হয়, তখন চাওয়া-পাওয়ার অমিল কিংবা বোঝাপড়ার অভাব তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। একজনের কাছে যা স্বাভাবিক, অন্যজনের কাছে তা-ই হয়তো অদ্ভুত। আর বিয়ের মতো একটা সম্পর্কে যখন দুজনের প্রত্যাশা, জীবনযাপন ও চিন্তাভাবনার মধ্যে এতটা পার্থক্য থাকে, তখন ফ্যান্টাসির সঙ্গে বাস্তবতার সংঘাতও স্পষ্টভাবে ধরা দেয়। ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ মূলত এই দুই জগতের সংঘাত এবং তার মধ্য দিয়ে একটি সম্পর্কের বাস্তবতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এখানে নির্মাতা জাহিদ প্রীতম গল্পটা ভীষণ সরলরৈখিকভাবে প্রেজেন্ট করেছেন। পুরো ওয়েবফিল্মে বেশ ফিল-গুড একটা ভাইব বজায় ছিল। পাশাপাশি ওয়েবফিল্মটা দেখার সময় জেনারেশন ওয়াইজ ব্যাপারগুলো বেশ রিলেটেবল ফিল হয়েছে। বিশেষ কিছু মুহূর্ত যেনো আমাদের মনে করিয়ে দেয় শৈশবের কথাও। কারেন্ট চলে যাওয়ার পর সকলে মিলে ছাদে আড্ডা দেওয়া কিংবা সকলে একসাথে মুষলধারার বৃষ্টিতে ভেজা—এসব যেন আমাদের স্মৃতিতে এক বিশেষ জায়গা জুড়ে আছে।

অভিনয়ে আরিফিন শুভ বেশ ভালো করেছেন। শুভ’র মধ্যে ‘আহারে’ সিনেমার সেই সারল্যকে ফিরে পেলাম যেন। তার অভিনয়ে একটা ভীষণ সরল ও সুন্দর ব্যাপার আছে, যা চরিত্রটিকে উপভোগ্য করে তুলেছে। কেয়া পায়েলও গল্পের সাথে দারুণভাবে মানিয়ে গেছেন। কেয়া পায়েলের চটপটে স্বভাবটা বেশ উপভোগ্য লেগেছে। এছাড়া বাকিরা নিজেদের চরিত্রে সাবলীল ছিলেন। কারিগরি দিকগুলোতেও ওয়েবফিল্মটির কাজ ভালো হয়েছে।

সবমিলিয়ে এই ছিল ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’। ছুটির দিনে ফিল-গুড কিছু দেখতে চাইলে বসে পড়ুন এই জেনারেশন গ্যাপের গল্প দেখতে!


Leave a reply