সৌন্দর্য বনাম মৌসুমী
দেখলেই নায়িকা মনে হয় কিংবা ‘পয়লা দর্শনদারী’ বলে যে কথাটা আছে মৌসুমী তার আদর্শ উদাহরণ। নায়িকা বিষয়টা নব্বই দশকে নতুন প্রজন্মের কাছে শাবনাজ যে শুরুটা করেছিল মৌসুমী ৯৩-তে এসে তার পূর্ণতা দিয়েছিল। যেকোনোভাবেই ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এর মৌসুমী দেশের বিনোদনজগতে বিশেষ আলোড়ন তুলেছিল।

চলচ্চিত্রে অভিষেকের আগেই ফটোসুন্দরী হবার যে বিষয়টা সেখানে তার পুরোপুরি গ্ল্যামারাস উপস্থিতি। কী চেহারা! দেখলেই দেখতে মন চায়। প্রথম ছবি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে যে জার্নিটা শুরু হয়েছিল তারপর পত্রিকার শিরোনাম স্বাভাবিকভাবেই হয়েছিল-‘এ ঝড়ের নাম মৌসুমী।’
‘মেরিল স্প্রিং রেইন শ্যাম্পু, গোয়ালিনী’ কিংবা ‘সুন্দরী প্রিন্ট শাড়ি’-র বিজ্ঞাপনে মৌসুমী যে সৌন্দর্য তুলে ধরেছিল সেটা নায়িকার পাশাপাশি একজন মডেল হিসেবেও বিজ্ঞাপনের জগতে একেবারে অসাধারণ কিছু ছিল। ফটোজেনিক ফেসের পারফেক্ট উদাহরণ।
এমনকি তখনকার টিভি ইন্ডাস্ট্রির নামকরা নাটক/টেলিফিল্মের কথাই যদি বলা হয় সেখানে ‘আড়াল’ কিংবা ‘ছবির মতো মেয়ে’ সেখানেও মৌসুমীর নাম ছিল। ‘আড়াল’ টেলিফিল্মে মৌসুমীর হেয়ার স্টাইলের যে ক্রেজ ছিল সেটাকে আজকের সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষায় ক্রাশ বলে প্রচার করা হয়। নব্বইয়ের সময় সেটা ছিল মুগ্ধতার রেশ ধরে রাখা আর পত্রিকায় চিঠি লিখে মনের কথাটা জানানোর মতো ঘটনা।
সৌন্দর্যের পারফেকশনের জন্য তার নামে ছবির নামকরণ পর্যন্ত করা হলো ‘মৌসুমী’। নায়িকার নামে ছবির নাম আর সে নামের সার্থকতায় কালজয়ী গান মৌসুমীকে দিয়েই সম্ভব হয়েছিল।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত, স্বজন, দোলা, প্রথম প্রেম, প্রিয় তুমি, তুমি সুন্দর, লজ্জা, আজ গায়ে হলুদ, আত্মত্যাগ, সুখের ঘরে দুখের আগুন, আত্ম অহংকার, বিশ্বপ্রেমিক, আদরের সন্তান, মনে রেখো পৃথিবী, গরিবের রাণী’ এসব ছবির গ্ল্যামারাস মৌসুমী নায়িকার উদাহরণ দেয়ার জন্য আদর্শ।
রোমান্টিক গানে নায়িকাকে সুন্দরী লাগবে এটা তো স্বাভাবিক বিষয় কিন্তু স্যাড ভার্সনের গানেও নায়িকাকে অনিন্দ্যসুন্দরী দেখতে পারার যে চোখের শান্তি মৌসুমী সেটা ছিল ‘সময় হয়েছে ফিরে যাওয়ার’ (আদরের সন্তান) গানে।
বয়স বাড়লে নাকি সৌন্দর্য সবার থাকে না অথচ মৌসুমী সেই নায়িকা মুটিয়ে যাবার পরেও সৌন্দর্যে ভাটা পড়েনি। সবসময়ই একটা আর্ট তার গড়নে ছিল। যখন সমসাময়িক অনেকের ক্যারিয়ার শেষ বা অনিয়মিত হয়ে গিয়েছিল মৌসুমী ‘প্রজাপতি’-র মতো ছবিতে ‘লাজুক পাতার মতো লজ্জাবতী’ গানে দর্শককে তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ করেছিল। দর্শক সিনেমাহলেই বলে উঠেছিল-‘কত নায়িকা এলো গেলো মৌসুমী থেকে গেল।’ এটা কম কি!
তো মৌসুমীর জার্নি বা সাফল্যটা অনেকের থেকে একদম আলাদা। চেহারার সৌন্দর্যের পাশাপাশি সেই সাফল্যের গল্পটাও একটা সৌন্দর্য তার ক্যারিয়ারের। মৌসুমী নামটি থেকে যাবে চলচ্চিত্রে।






