ইন্ডিয়ান ফিল্মে মন্দির থাকে, ইউরোপে চার্চ; কিন্তু আমাদের মিলাদ থাকার মতো নরমাল জিনিসকেও অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে: ফারুকী
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল ডিটেইলিংয়ে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুষঙ্গের অনুপস্থিতি এবং এ নিয়ে তৈরি হওয়া সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক সংকট নিয়ে নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

সম্প্রতি জহির রায়হানের ‘আনোয়ারা’ চলচ্চিত্রের একটি মিলাদ শরীফের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সূত্র ধরে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই মন্তব্য করেন। ফারুকী উল্লেখ করেন, ভারতীয় বা ইউরোপীয় চলচ্চিত্রে নিজস্ব ধর্মের প্রতীক ও চর্চা দেখানো স্বাভাবিক বিষয় হলেও, বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে মিলাদের মতো স্বাভাবিক অনুষঙ্গগুলোও ধীরে ধীরে আড়ালে চলে গেছে।
সম্প্রতি নয়, মূলত বছর কয়েক আগে ‘আনোয়ারা’ সিনেমার দৃশটি ভাইরাল করেন কবি ও বুদ্ধিজীবী ইমরুল হাসান। প্রতি বছরই তিনি দৃশ্যটি সামনে আনেন এবং তার সিনেমা বিষয়ক বইয়েও দৃশ্যটির উল্লেখ আছে।
যাই হোক এবার ফারুকী প্রসঙ্গ। লেখায় এ নির্মাতা উল্লেখ করেন, “আমরা অলমোস্ট এরকম একটা অটো সিস্টেমে পড়ে গেছিলাম যাতে অবচেতনেই ইসলামিক ডিটেইল এড়াইয়া যাইতাম। যেনো ঐ ডিটেলগুলা থাকলে আমার আর্টটা ক্ষ্যাত হইয়া যাইতে পারে।” নিজের কাজের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তার নির্মিত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘টেলিভিশন’-এ তিনি প্রথম এসব সামাজিক ও ধর্মীয় ডিটেইলিং স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা শুরু করেন।
তবে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর এ আলাপকে শুধু বিকল্প বা কথিত শৈল্পিক ধারার সিনেমা নিয়ে সত্য ধরা যায়। মূলধারার বাংলা সিনেমা ও এমনকি হুমায়ূন আহমেদের নির্মাণেও ধর্মীয় অনুষঙ্গের ব্যবহার দেখা গেছে।
স্ট্যাটাসে ফেরা যাক। শিল্প-সংস্কৃতিতে এই সংকটের জন্য সমাজের উভয় পক্ষের চরমপন্থাকে দায়ী করেন ফারুকী। ভারতে শুটিং করার সময় ক্যামেরা ও লাইটিং ক্রুদের কাজের শুরুতে পূজা করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে কোনো সিনেমার মহরত মিলাদ শরীফ দিয়ে করলে দুই পাশ থেকেই আক্রমণ আসবে—এক পক্ষ তাকে রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ করবে, অন্য পক্ষ তার পূর্বের কাজের প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করবে।
তিনি সমাজের এই দ্বিধাবিভক্ত মনস্তত্ত্ব কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “স্পাইক লি যদি ‘Jesus Christ, help me’ বলেও লিবারেল ও আধুনিক থাকতে পারেন, আপনি আল্লাহ, ঈশ্বর বা God-এ বিশ্বাস রেখেও আধুনিক ও লিবারেল থাকতে পারেন। আবার বিশ্বাস না রেখেও পারেন। আর বিপরীত দিকের ভাই-বোনেরা, কালচারাল হেজেমনি নিয়ে প্রতিবাদ করবেন কিন্তু কালচারাল অ্যাকোমোডেশনে বিশ্বাস করবেন না, তাহলে ফায়দা হবে না।”






