Select Page

ঢালিউড বনাম টালিউড

আমাদের মোট হল সংখ্যা ৩০০ এর থেকে কিছু বেশি। নতুন মুভি মুক্তি পেলে সর্বোচ্চ ১২০ টা হলে চলে। বাকি থাকলেও ১৮০ এর থেকে কিছু বেশি হল। তাহলে সেখানে কি চলে? সেখানে চলে এক টিকিটে দুই ছবি। মানে দেখবেন একটা ভাল ছবি এরপর যা শুরু হবে তা দেখার জন্য আপনি প্রস্তুত থাকবেন না।

এই কয়েকদিন মুক্তিপ্রাপ্ত মুভিগুলোর হল লিস্ট যদি খুব ভালোভাবে বিবেচনা করেন তাহলে দেখতে পাবেন যে যেসব হল নতুন মুভি নেয় তারাই প্রতি সপ্তাহে মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন মুভি গুলো আবার নিয়ে যায়, কিন্তু অন্য হলের সেখানে কোন নাম নিশানা নেই। বেশির ভাগ নতুন মুভি চলে ঢাকা, ঢাকার আশেপাশে এবং কিছু জেলা শহর গুলোতে। কিন্তু গ্রাম অঞ্চলে বা একটু দুরের শহর গুলোর হলে কিন্তু নতুন মুভি চলছে না।

আমার লাস্ট কথাটা খুব ভালো করে খেয়াল করুণ, তার মানে হল নতুন মুভিগুলো যেহেতু সেখানে যাচ্ছে না তাই বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি যে একটু একটু করে পরিবর্তন হতে শুরু করেছে তারা কিন্তু সেটা জানতে পারছে না। তার ভাবছে এখনো সেই আগের মত রয়েছে। তার মানে আমাদের নতুন ভালো মুভিগুলো আমরা তাদের কাছে পৌছাতে ব্যর্থ হচ্ছি।

আপনি যদি গ্রামের একজনকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, “ভাই, শিমুল খানকে চিনেন?”

সে আপনাকে উত্তর দিবে “উনি কেডা?”

পরক্ষনে যদি আপনি প্রশ্ন করেন, ” ভাই, রজতাভ দত্ত, খরাজ মুখার্জীকে চিনেন?”

সাথে সাথে উত্তর আসেব, “চিনি তো , হেরা তো কলকাতার মুভিতে কাজ করে।”

দুঃখের বিষয় হল আমাদের শহরের কিছু মানুষ নতুন ভালো অভিনেতা, অভিনেত্রী এবং পরিচালকের নাম জানলেও আপনি মফস্বল শহরে সেটা পাবেন না। আপনার কাছে সায়মন সাদিক, জায়েদ খানের নাম মোটামুটি জানা হলেও তারা কিন্তু সেটা জানে না। কিন্তু সেখানে যদি আপনি অংকুশ কিংবা বনির কথা বলতেন তারা খুব সহজে বলত, চিনি তো বনি তো বরবাদে অভিনয় করেছে। একটু ভাবুন তো কারণ কি? নিজের দেশের সায়মনের একটি মুভির নাম বলতে পারে না কিন্তু বনির মত একজন নতুন অভিনেতার মুভির নাম মনে রাখে। এইটা কি আমাদের ইডাস্ট্রির ব্যার্থতা নয়?

কারণ অনুসন্ধানে যদি আসি তাহলে অনেকগুলো দিক চলে আসবে। দেব, জিৎ, অংকুশ কিংবা সোহমের মুভি যদি আপনি এই গ্রামের হলগুলোতে মুক্তি দেন আমি চোখ বুঝে বলে দিতে পারি টানা ৩-৪ দিন এই মুভি হাউজফুল চলবে। কেন? ওদের মুভিতো রিমেক। আসলে কাহিনী কি, আমি আপনি জানি রিমেক কিন্তু ঐ মফস্বলের ভ্যান চালক কিংবা স্কুলের ছেলেটা তো সেটি জানে না। তার কাছে ঐ মুভির টুইস্টগুলো খুবই দারুণ লাগবে, কারণ ওরা রিমেক করলেও খুব ভালো ডিকেরশন, একশন এবং সাথে গান দেয়, যা একটি মুভির জন্য প্রপার প্যাকেজ বলা চলে।

এখন কেউ কেউ বলবেন রিমেক তো আমরাও করি তাহলে কেন হয় না? আসলে আমাদের রিমেক হল দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত। ১৪-১৫ কোটি টাকার মুভি যখন ৩-৪ কোটিতে রিমেক করতে যাবেন তা বস্তাপচা হবে না তো কি হবে। ভালো রিমেক ছাড়াও অন্যদিক আছে। দিকগুলো হল একশন, ডায়লগ ডেলিভারী, লুক এবং ড্যান্স। শুনতে খুব খারাপ শোনালেও একটু চিন্তা করে দেখুন তো আমাদের এখানে দেব বা অংকুশের মত কে ভালো নাচতে জানে? আমি তো দেখি না। এক শাকিব খান বাদ দিলে আর কে ভালো অভিনয় করে জিৎ, সোহম, প্রসেনজিতের মত। আছে কেউ? আচ্ছা আমাদের তো হুমায়ূন ফরিদী চলে গেছে কিন্তু আর কি কেউ আছে? কলকাতার রজতাভ দত্তের মত এক মিশা ছাড়া আর কে আছে আমদের? আবির চ্যাটার্জির মত একজন অভিনেতা কি আছে বর্তমান প্রজন্মে আমাদের?

হয়তো আছে কিন্তু আমাদের রাজনীতি অথবা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি মানেই খারাপ এমন ভেবে অনেকেই আসে না। আসলে আপনি যখন মাধুরি কিংবা ঐশ্বরিয়ার নাচ অভিনয় দেখে আমাদের মুভি দেখতে আসবেন তখন আসলেই সেই মানের অভিনেত্রী পাবেন না আমাদের এখানে।

কলকাতার মুভির গানগুলো আপনার আমার কাছে তেমন ভাল না লাগলেও তারা এমন ভাবে প্রচার করে যে আপনি শুনতে বাধ্য। সেখানে আমাদের মুভির গান তো দুরের কথা মুভির ট্রেলার বের হয় রিলিজের কয়েকদিন আগে। এমন কি কিছু কিছু মুভি মুক্তি মাত্র তিনদিন আগে মুভির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জানতে পারেন যে মুভিটি  রিলিজ পাচ্ছে। প্রচারণা তো অনেক দূরের কথা, আর গান সেতো কল্পনাতীত। তার রিমেক করলেও প্রযুক্তি এবং পরিকল্পনাগত দিক থেকে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। সেখানে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। আর মার্কেটিং লেভেলে আমাদের জ্ঞান বলতে গেলে প্রায় জিরো। কারণ টা নাই বা বললাম 🙂

শুধু পরিচালকদের দোষ না দিয়ে সংশ্লিষ্ট আর্টিস্ট এবং আমাদের যারা এই ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত আছেন তাদের ও ভুল আছে এটা বুঝতে হবে। আপনি নিজেকে ১০০% অভিনেতা, অভিনেত্রী হিসাবে গড়ে তুলুন নাচ, অভিনয় এবং একশন দ্বারা। সাথে পার্শ্ব অভিনেতারাও নিজেদেরকে হুমায়ূন ফরিদী, রাজীব, সাদেক বাচ্চু, গোলাম মোস্তফা, রাজ্জাক স্যারদের মত না হলেও তাদের মত করে তোলার চেষ্টা করুক। দেখবেন একজন ভালো মানের পরিচালক আমাদের বিশ্বমানের মুভি উপহার দিবে। কলকাতার মুভির নাম তখন আর ঐ গ্রামে ধ্বনিত হবে না। তখন প্রতিটি স্থানে নতুন বাংলা মুভির নাম ছড়াবে, সালমান শাহ, ওমর সানী, আমিন খান, নাইম, রিয়াজ, মান্নার মুভির মত। শুধু দরকার নিজেদের স্কিল উন্নত করা আর ইচ্চা শক্তি। কারণ ইন্ডাস্ট্রি আমাদের, উন্নতি আমাদেরকেই করতে হবে, এজন্য সবার এগিয়ে আসতে হবে। একদিনে তো সম্ভব নয় কিন্তু শুরুটা এখন থেকেই হলে মন্দ কি?

 


অামাদের সুপারিশ

১ টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ই-বুক ডাউনলোড করুন

BMDb ebook 2017

Coming Soon
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের অভিনয়শিল্পী বাছাই কেমন হয়েছে?
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের অভিনয়শিল্পী বাছাই কেমন হয়েছে?
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের অভিনয়শিল্পী বাছাই কেমন হয়েছে?

Shares