Select Page

‌‘নতুন মুখ, বড় বাজেট আর আন্তর্জাতিক লক্ষ্য’ নিয়ে ফিরে আসার ঘোষণা জাজ মাল্টিমিডিয়ার

‌‘নতুন মুখ, বড় বাজেট আর আন্তর্জাতিক লক্ষ্য’ নিয়ে ফিরে আসার ঘোষণা জাজ মাল্টিমিডিয়ার

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া আবারও ‘ওল্ড ফর্মে’ ফেরার ঘোষণা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের এই প্রত্যাবর্তন মানে পুরনো ধাঁচের তারকানির্ভর সিনেমা নয়; বরং নতুন গল্প, আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন পরিচালক ও একেবারে নতুন মুখ নিয়ে বড় পরিসরের চলচ্চিত্র নির্মাণ।

জাজ মাল্টিমিডিয়ার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি ‘ভালোবাসার রং’

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘বড় সিনেমা’ বলতে তারা সুপারস্টার-নির্ভর কাস্টিংকে বোঝায় না। বরং নির্মাণ, প্রযুক্তি, লোকেশন, অ্যাকশন ও সংগীত—এই দিকগুলোতেই মূল বিনিয়োগ করা হবে। উদাহরণ হিসেবে ‘অগ্নি’র কথা উল্লেখ করে, যা বড় বাজেটের হলেও তখনকার হিসেবে নতুন মুখ দিয়েই নির্মিত হয়েছিল।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে নতুন পরিচালকদের সঙ্গে চারটি সিনেমার জন্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এসব সিনেমায় অভিনয় করবেন একেবারে নতুন নায়ক-নায়িকা। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক মহরতের মাধ্যমে নতুন নায়িকাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে, তবে নতুন নায়কের পরিচয় দর্শক সরাসরি প্রেক্ষাগৃহেই দেখতে পাবেন—এটাই তাদের নতুন মার্কেটিং কৌশল।

বাজেটের দিক থেকে এসব সিনেমা বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রযোজনা হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাজ। যদিও পুরো সিনেমার কাস্টিং খরচ থাকবে প্রায় ৫ লাখ টাকার মধ্যে। কারণ, স্টারের পেছনে ব্যয় না করে প্রোডাকশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সিনেমাগুলোর ভিজ্যুয়াল এফেক্টস (ভিএফএক্স) ও এআই-সংক্রান্ত কাজ হবে যুক্তরাষ্ট্র ও মুম্বাইয়ের রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টে, কালার গ্রেডিং হবে যুক্তরাষ্ট্রে, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক মুম্বাইয়ে এবং সাউন্ড ডিজাইন চেন্নাইয়ে সম্পন্ন করা হবে।

তবে এত বড় বাজেটের অর্থ দেশের বাজার থেকে পুরোপুরি উঠে আসবে না বলেও স্বীকার করেছে জাজ। তাদের ধারণা, দেশীয় প্রেক্ষাগৃহ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ কোটি টাকা আয় হতে পারে। বাকি অর্থ আন্তর্জাতিক থিয়েটার ও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং বিদেশি বড় দুটি ওটিটি প্লাটফর্মের সঙ্গেও কথাবার্তা চলছে।

‘অগ্নি’ ছবির দৃশ্য

জাজের এই নতুন পরিকল্পনায় শুধু নতুন সিনেমাই নয়, নতুন তারকা ও নির্মাতাও উপহার দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। অতীতে তারা যেভাবে বাপ্পি চৌধুরী, মাহিয়া মাহি, আরেফিন শুভ, নুসরাত ফারিয়া, সিয়াম আহমেদ-দের মতো শিল্পীদের পরিচিত করেছে, এবারও তেমন নতুন মুখ আনার প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণাধীন সিনেমাগুলো বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি—এই তিন ভাষায় মুক্তি পাবে। চারটি ব্যতিক্রমধর্মী সিনেমার পাশাপাশি এ বছর আরও দুটি ‘ডার্ক থ্রিলার’ এবং ২০২৭ সালে একটি রোমান্টিক সিনেমা নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। সব মিলিয়ে সাতটি সিনেমার একটি বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জাজ।

ইতোমধ্যে টেস্ট শুটিং সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিনয়শিল্পী নির্বাচন চূড়ান্ত। আগামী মে ২০২৬ থেকে শুরু হবে মূল শুটিং। জাজ কর্তৃপক্ষের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন ধারা ও আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণশৈলী প্রতিষ্ঠা পাবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে ঢাকাই সিনেমায় আবির্ভাব ঘটে জাজ মাল্টিমিডিয়ার। এক সময় তারাই একচেটিয়া ব্যবসা করে। পরে যৌথ প্রযোজনার নামে ভারতীয় সিনেমার পরিবেশকে পরিণত হয় প্রতিষ্ঠান। এতেই ধস নামতে থাকে ব্যবসায়। সবশেষে জাজের কর্ণধার আব্দুল আজিজ বড় অংকের আর্থিক কেলেংকারিতে ফেরার হলে প্রতিষ্ঠানটি একদমই আড়ালে চলে যায়।


Leave a reply