মমতাময়ী বোন মৌসুমী
মৌসুমী তার বেশকিছু ছবিতে মমতাময়ী বোনের চরিত্রে ছিল। সেসব ছবিতে ভাইয়ের জন্য তার মমতাময়ী রূপ প্রকাশ পেয়েছে। ইমোশনাল সেসব চরিত্র নিয়ে এ আয়োজন :

ইতিহাস
বোনের চরিত্রের মধ্যে ‘ইতিহাস’ ছবি থাকবে প্রথমে। কাজী মারুফের প্রথম এ ছবিতে মৌসুমী ছিল তার বড়বোন। মারুফের ডাকত ‘কাজলা দিদি’। পরম মমতায় মারুফকে আগলে রাখত মৌসুমী। মারুফ পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পর যখন পুলিশ তাকে মারুফকে ফেন্সিডিল দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয় তারপর মারুফকে দেখতে মৌসুমী খাবার নিয়ে জেলে যায়। খাবারগুলো খাওয়ানোর সময় মৌসুমী বলে-‘তুই নাকি পুলিশকে বলেছিস তুই ফেন্সিডিল খাস?’ মারুফ বলে-‘হ্যাঁ, বলছি।’ মৌসুমী বলে-‘তোকে বলতে বললেই তুই বলবি?’ মারুফ সরল উত্তর দেয়-‘না বললে আমাকে মেরে ফেলত আপু।’ এত মমতার সাথে মৌসুমী মারুফকে বুকে আগলে রাখে যেন পর্দার নয় বাস্তবেরই বোন। ছবির শেষদিকে যখন সমাজের অন্ধকার দিক নিয়ে মারুফের সাথে মৌসুমীও চিৎকার করে অনেক কথা বলে সেটা ছিল অসাধারণ কিছু।
তারকাঁটা
বোনের চরিত্রে খুবই ইমোশনাল ছিল মৌসুমী এ ছবিতে। আরিফিন শুভ ছিল মৌসুমীর ভাই। ‘তুই যে আমার নয়নমণি’ গানটিতে শুভর প্রতি বড়বোন মৌসুমীর গভীর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। দুই ভাইবোন গান করে। একসাথে বসে রেওয়াজ করে ‘কী যে শূন্য শূন্য লাগে তুমিহীনা’ গানে। অসাধারণ বন্ধন প্রকাশ পায় ভাইবোনের ভালোবাসার। একসময় শুভর সাথে দূরত্ব ঘটে মৌসুমীর। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে শুভর সম্পর্ককে মানতে পারে না মৌসুমী কিন্তু ভাইয়ের জন্য মমতা সবসময় থাকে। ফোনের মধ্যে কথা না বলে অপর প্রান্তে ভাই শুভর জন্য শুধু কেঁদে যাওয়ার মাধ্যমে মৌসুমীর পরম মমতা প্রকাশ পায়। শুভ শেষের দিকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় মৌসুমীর কোলে মাথা রেখেই। ‘তোকে গুলি করল কে’ মৌসুমীর এ সংলাপের মধ্যেই প্রকাশ পায় পরম মমতা। ছবির নায়িকা মীম বড় শিল্পী হয়ে যায়, যখন সে তারকা হয়ে স্টেজে গান করতে যায় মৌসুমীও শুভর জন্য কেঁদে বুক ভাসায়। অসাধারণ ছিল।

এক বুক জ্বালা
শাকিব খানের একাধিক ছবিতে মৌসুমী বড়বোন ছিল। ‘এক বুক জ্বালা’ ছবিতে মৌসুমী শাকিবের বড় বোন এবং শাকিবকে আগলে রাখে। দুই ভাইবোন গানে গানে বলে :
মৌসুমী – ও আমার ভাইয়া রে রাঙা বৌ এনে দে
শাকিব – ও আমার বুবু রে, দুলাভাই এনে দে
বোন ছোটভাই শাকিবের বউ দেখতে চায় আর ভাই শাকিব দুলাভাই দেখতে চায়। গানটা এত মমতামাখা ছিল যা অসাধারণ।
সাহেব নামে গোলাম
এ ছবিতেও শাকিব খানের বড়বোন ছিল মৌসুমী। ছোটবেলায় শাকিব অন্যায়ের প্রতিবাদ করে পরিবার থেকে আলাদা হলে বড়বেলায় আবার ফেরত আসে গোলাম হয়ে। তখন পর্যন্ত মৌসুমী জানতে পারে না যে শাকিব তার ভাই। মৌসুমীর স্বামী ওমর সানী অন্যদের সাথে হাত মিলিয়ে মৌসুমীকে ধোঁকা দিতে থাকে এবং সেটা শাকিব জানতে পারে। বোনের সংসার বাঁচাতে শাকিব মরিয়া হয়ে ওঠে। একসময় পরিচয় প্রকাশও পায়। কিন্তু সম্পর্কের দূরত্বের জন্য মৌসুমী শাকিবকে মেনে নেয় না। সরাসরি বলে-‘এতদিন পর তোকে ফিরে পেয়েছি বলে ভাবিস না তোকে আমি বুকে জড়িয়ে নেবো।’ শাকিব মেনে নিয়ে চলে যায় বাড়ি থেকে তার আগে শাসিয়ে যায় সানীকে। বোনের পাশে ছায়ার মতো থাকে শাকিব আর মৌসুমীও মনে মনে শাকিবের প্রতি টান অনুভব করতে থাকে।

ত্যাজ্যপুত্র
এ ছবিতে বাপ্পারাজের বড়বোন থাকে মৌসুমী। বাবা হারাবার পর বাপ্পাকে আগলে রাখে মৌসুমী। বাপ্পার সাথে তামান্নার প্রেম হলে তাদের বিয়ের জন্য মৌসুমী নিজে কথা বলতে যায় মৌসুমী। বড়বোনের দায়িত্বের বিষয়টি এ ছবিতে মৌসুমীর চরিত্রে দারুণভাবে এসেছে।
আশিকি
এ ছবিতে মৌসুমী অঙ্কুশের বড়বোনের চরিত্রে ছিল। মৌসুমীকে ছবির নায়িকার ভাই বিরক্ত করত, বিয়ের আংটি মৌসুমীর হাত থেকে খুলে ফেলে এবং অঙ্কুশ সেটা জানতে পেরে প্রতিশোধ নেয়। অঙ্কুশকে যখন ফারিয়ার পরিবার মানতে পারছিলো না মৌসুমী তখন অঙ্কুশের পাশে দাঁড়ায় ছায়ার মতো।






