ঈদুল আজহা ২০২৬-এর সিনেমা: সার্বিক রিভিউ
ঈদের ছবির মান অনুযায়ী ধারাবাহিক রিভিউ দেয়া হলো। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ। অনেকের সাথে মিলে যেতে পারে কিংবা অনেকের বিবেচনা ভিন্ন হতে পারে।
এক. রইদ
মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত এ ছবি মানের দিক থেকে প্রথম অবস্থানে আছে। ছবির মেকিং মাস্টারপিস লেভেলে গেছে। আদম ও হাওয়ার কনসেপ্টে সাদু ও সাদুর বউয়ের জীবন সংগ্রাম, প্রেম ও পরিণতি দেখানো হয়েছে। প্রধান দুই চরিত্রে নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এখন পর্যন্ত তাদের ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয়দক্ষতা দেখিয়েছে। চরিত্রের প্রয়োজনে যতটুকু নিজেকে ভাঙা সম্ভব তার সবটাই তারা করেছে। মোস্তাফিজুর নূর ইমরান সাদু চরিত্রে নিজের লুক ও অভিনয়ের লেভেল বজায় রেখে অসাধারণ অভিনয় দেখিয়েছে। নাজিফা তুষি সাদুর বউয়ের চরিত্রে বৈচিত্র্যময় ভূমিকা থেকে অভিনয় করেছে দীর্ঘদিনের ডেডিকেশনে। ছবির সিনেমাটোগ্রাফি টপনচ, লোকেশনও কাব্যিক সৌন্দর্যের করে তোলা হয়েছে। অভিনয়শিল্পীদের অভিনয় ও পরিচালকের সুনির্মাণ দুইয়ে মিলেই এটি ঈদের সেরা (প্রথম) ছবিতে পরিণত হয়েছে।

দুই. বনলতা সেন
মাসুদ হাসান উজ্জ্বল পরিচালিত এ ছবিতে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের জীবন ও কর্মের একটা নির্দিষ্ট রূপ শিল্পসম্মতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। জীবনানন্দের বহুল চর্চিত ও বিখ্যাত কবিতা ‘বনলতা সেন’ থেকে ধারণা নিয়ে বনলতা সেনের বাস্তব ও কাল্পনিক উপস্থিতির মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি করেছেন পরিচালক। ‘বনলতা সেন’ ছাড়াও একাধিক বিখ্যাত কবিতার থিম শৈল্পিকভাবে এসেছে। চারটি চরিত্রকে পরিচালক প্রধানরূপে তুলে ধরেছেন। জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে খায়রুল বাশার, বনলতা সেনের চরিত্রে মাসুমা রহমান নাবিলা, শোভনা চরিত্রে রূপন্তী আকিদ ও মহীন চরিত্রে সোহেল মণ্ডল। জীবনানন্দের ‘ঘোড়া’ কবিতার চরিত্র মহীনের বয়ানেই ছবিটি বলা হয়েছে এবং এটি ছিল পরিচালকের সবচেয়ে ক্রিয়েটিভ জায়গা। কারিগরি দু’একটি ত্রুটি ছাড়া ছবিটি ক্রিয়েটিভ প্রেজেন্টেশনে পরিণত হয়েছে। এটি মানের দিক থেকে ঈদের দ্বিতীয় ছবি।
তিন. রকস্টার
আজমান রুশো পরিচালিত এ ছবিতে বর্তমান বাণিজ্যিক ছবির শীর্ষ নায়ক শাকিব খান সম্পূর্ণ নতুন চরিত্রে উপস্থিত হয়েছে। তার ক্যারিয়ারে একজন মিউজিশিয়ানের চরিত্র এই প্রথম এবং তার পারফরম্যান্সই ছবির প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ছবির গল্প ভালো হলেও পরিচালকের প্রেজেন্টেশনের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। সাবিলা নূর শাকিবের বিপরীতে ভালো অভিনয় করেছে অন্যদিকে তানজিনা মিথিলা গ্ল্যামারে দৃষ্টি কেড়েছে। ছবিটি মানের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে।
চার. মাসুদ রানা
সৈকত নাসির পরিচালিত মাসুদ রানা সিরিজের নতুন ছবি ‘মাসুদ রানা’। কাজী আনোয়ার হোসেনের ‘ধ্বংস পাহাড়’ বই থেকে নেয়া এ ছবিতে ভালো গল্পের মিডিয়াম মানের প্রেজেন্টেশন দেখা গেছে। ছবিতে অ্যাকশন ভালো থাকায় এবং ধারাবাহিকভাবে থাকায় গতি ছিল গল্পে তবে কারিগরি দিক থেকে দুর্বলতা লক্ষণীয় ছিল। প্রধান চরিত্রে নবাগত রাসেল রানার পরিশ্রম ভালো হলেও অভিনয়ে দুর্বলতা লক্ষ করা গেছে। নায়িকার মধ্যে পূজা চেরী অভিনয় ও পারফরম্যান্সে এগিয়ে ছিল। অন্য নায়িকা সৈয়দা তিথি মোটামুটি মানের। ঈদের ছবির মধ্যে এটি চতুর্থ অবস্থানে।
পাঁচ. মালিক
সাইফ চন্দন পরিচালিত এ ছবিতে অ্যাকশন অবতারে উপস্থিত হয়েছে আরিফিন শুভ। তার লুক দুর্দান্ত এবং নিজের চরিত্রে পারফেক্ট ছিল। গল্প অনুযায়ী ছবিতে গতি ছিল বেশ কম এবং সেটি পরিচালকের কাজের দুর্বলতাকে তুলে ধরেছে। মীম শুভর বিপরীতে ভালো পারফরম্যান্স করেছে। ছবির গানগুলো এনার্জেটিক ছিল। ঈদের ছবির মধ্যে এটি পঞ্চম অবস্থানে।
ছয়. পিনিক
জাহিদ জুয়েল পরিচালিত এ ছবিটি শবনম বুবলীর অভিনয়কেই প্রধান আকর্ষণে পরিণত করেছে। নায়কের চরিত্রে আদর আজাদের অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ভালো হলেও তার সাম্প্রতিক অন্যান্য ছবির সাথে লুকের মিল থাকায় বিশেষত্ব ছিল না। পরিচালক ছবিটিকে এলোমেলোভাবে প্রেজেন্ট করেছেন যার জন্য এটি মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির মধ্যে ষষ্ঠ বা সর্বশেষ অবস্থানে থাকবে।
ঈদের অন্যান্য ছবিগুলো দেখা হয়নি এবং ট্রেলার অনুযায়ী দেখার উপযোগী মনে হয়নি।






