Select Page

‘মানসিক চাপের’ ঝুঁকি নিয়ে সিনেমায় ফিরছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

‘মানসিক চাপের’ ঝুঁকি নিয়ে সিনেমায় ফিরছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

অন্তর্বর্তী সরকারে সংস্কৃতি উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ করলেন মাস দুই আগে, ফের চলচ্চিত্রে মন দিচ্ছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। আর এই ফিরে আসার মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সৃষ্টিশীল জীবনের গভীর ও বেদনাময় অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন তিনি।

বড়পর্দায় মুক্তি পাওয়া ফারুকীর শেষ সিনেমা ছিল ‘শনিবার বিকেল’। তবে এটি দেশে মুক্তি পায়নি। এখন সেই সিনেমার স্থানীয় প্রদর্শন নিয়ে আগ্রহ নন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আরেক সিনেমা ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে ফারুকী একদম নীরব। এতে অভিনয় করেছেন বলিউডের নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী ও ঢাকার তাহসান রহমান খান

ফারুকী জানিয়েছেন, তার পরিচালিত কোনো সিনেমা মুক্তি পেলেই তিনি তীব্র মানসিক চাপে ভুগতে থাকেন—যা অনেক সময় শারীরিক প্রতিক্রিয়াতেও রূপ নেয়। নিজের ভাষায়, ‘আমার জীবনের একটি ট্র্যাজিক দিক আছে। সিনেমা মুক্তির সময় আমার জ্বর এসে যায়।’

এই চাপের মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন মুক্তির পরপরই আসা তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি যখন যে সিনেমাই বানাই, মুক্তি পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাই—এটা কোনো সিনেমাই হয় নাই। ফালতু।’

অবশ্য এবরাই প্রথম নয়, এর আগে একাধিকবার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি।

এ ধরনের সমালোচনা তাঁকে মানসিকভাবে আঘাত করে বলেও স্বীকার করেছেন ফারুকী। ফলে অনেক সময়ই তিনি ক্ষুণ্ন মন নিয়ে দ্রুত নতুন কাজে মন দেন, যেন আগের কাজটি ভুলে থাকতে পারেন।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চিত্র বদলে যায়। ফারুকীর ভাষায়, প্রায় এক দশক পরে সেই ‘ফালতু’ বলে সমালোচিত সিনেমাগুলোকেই নতুন প্রজন্মের দর্শকরা ‘ক্ল্যাসিক’ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তার উল্লেখ করা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাচেলর, মেড ইন বাংলাদেশ, থার্ড পারসন সিঙ্গুলার, টেলিভিশন এবং ৪২০।

দেরিতে পাওয়া এই স্বীকৃতি ভালো লাগলেও এর প্রভাব নিয়ে তাঁর আক্ষেপ রয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘মিথ্যা বলব না, ব্যাপারটা ভালো লাগলেও তত দিনে আমার প্রাণশক্তি অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। যে ভালোবাসাটা আগে পাইলে হয়তো আমি শারীরিকভাবে আরও তাজা থাকতাম।’ অর্থাৎ সময়মতো স্বীকৃতি না পাওয়ায় তার সৃজনশীল শক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

ফারুকীর ভাষায়, শিল্পচর্চার মতো সংবেদনশীল কোনো কাজ আর নাই। বিশেষ করে সেটা যদি হয় সিনেমা। আপনি কারও দৃষ্টিতে একটা “খারাপ” কবিতা লিখলে সে আপনাকে মারতে তেড়ে আসবে না। কিন্তু সিনেমা?

বর্তমানে নতুন একটি চিত্রনাট্যের কাজ করছেন জানিয়ে ফারুকী রসিকতার সুরে প্রশ্নও তুলেছেন—তাহলে কি সিনেমা বানিয়ে ১০ বছর ভল্টে রেখে পরে মুক্তি দেওয়া উচিত? তবে এই মন্তব্যে তাঁর হতাশার আভাস স্পষ্ট।

পোস্টের শেষাংশে তিনি জানান, দর্শকদের কথা ভুলে যাননি। যারা তার কাজকে ভালোবাসেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন, নতুন কাজ শুরু করলেই অতীতের অভিজ্ঞতা তাকে ভাবায়।

ফারুকীর ভাষায়, ‘শিল্পচর্চার মতো সংবেদনশীল কোনো কাজ আর নাই। বিশেষ করে সেটা যদি হয় সিনেমা। আপনি কারও দৃষ্টিতে একটা “খারাপ” কবিতা লিখলে সে আপনাকে মারতে তেড়ে আসবে না। কিন্তু সিনেমা?’

বড়পর্দায় মুক্তি পাওয়া ফারুকীর শেষ সিনেমা ছিল ‘শনিবার বিকেল’। তবে এটি দেশে মুক্তি পায়নি। এখন সেই সিনেমার স্থানীয় প্রদর্শন নিয়ে আগ্রহ নন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে আরেক সিনেমা ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে ফারুকী একদম নীরব। এতে অভিনয় করেছেন বলিউডের নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী ও ঢাকার তাহসান রহমান খান।


Leave a reply