Select Page

প্রেক্ষাগৃহে নিষিদ্ধ হলেও ইউটিউবের নামী-দামী চ্যানেলে উন্মুক্ত ‘অশ্লীল চলচ্চিত্র’

প্রেক্ষাগৃহে নিষিদ্ধ হলেও ইউটিউবের নামী-দামী চ্যানেলে উন্মুক্ত ‘অশ্লীল চলচ্চিত্র’

সেন্সরে নিষিদ্ধ হওয়া ‘প্রেমকাহন’ ও ‘মেকআপ’-এর দুটি সিনেমা সাম্প্রতিক সময়ে যথাক্রমে ইউটিউব ও ওটিটি প্লাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। তবে ওই সিনেমাগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে সেন্সর অসংগতি খুঁজে পেলেও ‘অশ্লীলতা’র অভিযোগ ছিল না দর্শক মহলে। এর উল্টো উদহারণ রয়েছে ইউটিউবে। ‘অশ্লীলতা’র অভিযোগ সেন্সর ও দর্শক দুই তরফে অভিভুক্ত সিনেমা এখন উন্মুক্ত এ বিনামূল্যের স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে।

সম্প্রতি আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অশ্লীলতাসহ বিভিন্ন কারণে স্থায়ীভাবে প্রদর্শন নিষিদ্ধ বেশ কিছু দেশীয় চলচ্চিত্রের ছড়াছড়ি ইউটিউবে। অপরিচিত ইউটিউব চ্যানেলের পাশাপাশি জনপ্রিয় কিছু প্রতিষ্ঠানের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলেও রয়েছে এসব চলচ্চিত্র।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড বলছে, কুরুচিপূর্ণ সংলাপ, অশ্লীল দৃশ্যসহ বিভিন্ন কারণে এসব ছবির প্রদর্শনী স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলছে, এ ব্যাপারে তারা কিছু জানে না।

সেন্সর বোর্ড বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু চলচ্চিত্রকে প্রদর্শনের অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে প্রদর্শন বাতিল করা চলচ্চিত্রগুলোর একটি তালিকাও আছে সেন্সর বোর্ডের ওয়েবসাইটে। ওই তালিকায় ১৯৯৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ের ৩৯টি চলচ্চিত্রের নাম রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কুরুচিপূর্ণ সংলাপ ও অশ্লীল দৃশ্যের জন্য সনদ বাতিল হওয়া ছবির সংখ্যাই বেশি। এর কয়েকটি নির্দিষ্ট জেলা বাদে পুরো বাংলাদেশে এবং বাকিগুলো পুরো দেশে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে ‘বস্তির রানি সুরিয়া’, ‘অ্যাটাক’, ‘সন্ত্রাস ঠেকাও’, ‘মডেল গার্ল’, ‘ফেরারী আসামী’, ‘ভয়ংকর সন্ত্রাসী’, ‘কুখ্যাত জরিনা’, ‘নরক’, ‘গ্যাংস্টার’, ‘এনকাউন্টার’, ‘নিষিদ্ধ প্রেম’, ‘রঙ্গীলা মাইয়া’, ‘সাবধান সন্ত্রাসী’-এর নাম। এই ৩৯টি চলচ্চিত্রকে প্রথমে সেন্সর সনদ দেওয়া হলেও পরে তা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। এগুলোর বেশির ভাগই মুক্তি পেয়েছিল ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে।

অতিপরিচিত মূলধারার পরিবেশক প্রতিষ্ঠান থেকে অখ্যাত ইউটিউব চ্যানেলে এসব ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউটিউবে ঈগল মুভিজ, জি সিরিজ, সিডি প্লাস মুভিজ, বিনোদন বক্স, অনুপম মুভিজ, জেএফআই মুভিজ, কৃষ্ণচূড়া মাল্টিমিডিয়া, রোজম্যারি অফিশিয়াল, ডিজিটাল এন্টারটেনমেন্ট, থ্রি স্টার ড্রামা, আই ভিশন, মিনি মুভি, সিডি ভিশন প্লাসসহ আরও কিছু চ্যানেলে নিষিদ্ধ চলচ্চিত্রগুলো দেখা যাচ্ছে।

জি সিরিজ গানের জগতে নামী প্রতিষ্ঠান। অথচ এর ইউটিউব চ্যানেলে সেন্সর বাতিল হওয়া ‘বস্তির রানি সুরিয়া’, ‘মডেল গার্ল’, ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’, ‘পাগল তোর জন্যরে’, ‘ব্যারিকেড’ ছবিগুলো আছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জি সিরিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিমুল জাহান বলেন, ‘আসলে আমরা অনেক ছবি একসঙ্গে কিনি। এর মধ্যে হয়তো দুই-একটি এমন ছবি চলে এসেছে। আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করছি যাতে এমন চলচ্চিত্র কিংবা চলচ্চিত্রের ক্লিপ ইউটিউবে প্রকাশিত না হয়। এমন ছবিগুলো চ্যানেল থেকে দ্রুত সরানো হবে।’

গানের জগতের আরেক জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান ঈগল মিউজিক। এই প্রতিষ্ঠানেরই একটি ইউটিউব চ্যানেল ঈগল মুভিজ। সেন্সর বাতিল হওয়া ‘গ্যাংস্টার’, ‘নিষিদ্ধ প্রেম’, ‘দুরন্ত’, ‘মহাতাণ্ডব’, ‘গজব’, ‘গডফাদার’, ‘নগ্ন হামলা’ ছবিগুলো প্রদর্শিত হচ্ছে এই ইউটিউব চ্যানেলে। জানতে চাইলে ঈগল মিউজিকের কর্ণধার কচি আহমেদ বলেন, ‘এ রকম হয়ে থাকলে আমাদের অগোচরে হয়েছে। সেন্সর বোর্ডের নিষিদ্ধ করা ছবি চালানোর ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা এই ছবিগুলো নামিয়ে ফেলব।’

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড সূত্র জানায়, সেন্সর সনদ দেওয়া কোনো ছবি প্রদর্শনের পর দেখা গেল, এতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। কিংবা ছবিটি প্রদর্শনের পর একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বিশৃঙ্খলা হয়েছে। অথবা পরে অশ্লীল দৃশ্য-সংলাপ জুড়ে দেওয়া হয়েছে–এমন নানা কারণে ছবির প্রদর্শনী বাতিল করা হয়। ওয়েবসাইটে তালিকায় থাকা ছবিগুলো স্থায়ীভাবে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী বাতিল করা হয়েছে। ওটিটি কিংবা ইউটিউব প্ল্যাটফর্মে ছবিগুলো প্রদর্শিত হলে সেটা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতায় পড়বে।

এ ব্যাপারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। এ রকম তথ্য এলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

উল্লেখ্য যে বিএমডিবি বিভিন্ন সময়ে দেখেছে, সিনেমা হলে প্রদর্শিত অনেক ‘অশ্লীল দৃশ্য বা গান’ বর্তমান ইউটিউব সংস্করণে নেই।


মন্তব্য করুন